যে লবণ খাই, তাতে প্লাস্টিক থাকে!


ভারতের সেন্টার ফর এনভায়রমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দুই প্রফেসর অমৃতানশু শ্রীবাস্তব ও চন্দন কৃষ্ণা শেঠ চমকে দেয়া এক তথ্য দিয়েছেন। নতুন এক গবেষণার পর তারা জানিয়েছেন, বাজারে যেসব কোম্পানির লবণ পাওয়া যায়, সেগুলোর অনেকগুলোতেই লবণের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা থাকে।

এসব প্লাস্টিকের কণার ব্যাস মূলত ৫ মিলিমিটারের মতো হয়। সাগরে যে অসংখ্য প্লাস্টিকের বোতল বা ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে, সেগুলো থেকেই এসব প্লাস্টিক কণা সৃষ্টি হয়। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকরা লবণের যে নমুনা পরীক্ষা করেছেন, তাতে ৬২৬টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। সেসবের ৬৩ শতাংশ ফ্রেগম্যান্ট ও ৩৭ শতাংশ ফাইবারের আকারে পাওয়া গেছে।

গবেষণার তথ্যমতে, এক কেজি লবণে ০.০৬৩ মিলিগ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। একজন মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণ লবণ খান, তাতে করে প্রতি বছর তিনি প্রায় ০.১১৭ মিলিগ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক খাচ্ছেন। বিভিন্ন খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ যে হারে বাড়ছে, তা জানার লক্ষ্যেই এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরের জন্য ক্ষতিকর, গবেষকরা এটা জানালেও তা শরীরে কোন কোন সমস্যা তৈরি করে, সে বিষয়ে এখনো কোনো গবেষণা হয়নি বলেছেন তারা। এই সমস্যা থেকে আপাতত রক্ষা পেতে গবেষকরা বালু ফিল্টার করার যে কৌশল প্রচলিত আছে, তা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। সে উপায়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক দূর করা যাবে, বলছেন তারা।