রংপুর কাণ্ডে এরশাদের পরিবার ক্ষুব্ধ


মৃত্যুর ১০ দিন না যেতেই রংপুরের শূন্য আসনে জাপা নেতাদের এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় এরশাদের পরিবার মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ।

পরিবার বলছে, অন্তত ৪০টি দিন পার হোক- তার আগে এ ধরণের প্রচারণা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। এরশাদের পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঠিক অনুশাসন না থাকায় এমনটা হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ মারা গেছেন ১৪ জুলাই।

রংপুর নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড,ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক কমিটির জাতীয় পার্টির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ রোববার দুপুরে নগরীর সেনপাড়াস্থ এরশাদের পৈত্রিক নিবাস স্কাই ভিউতে সমবেত হন। আসেন এরশাদ ভক্তরাও। এ সময় তারা জাপা নেতাদের আগাম প্রচারণা বন্ধ ও এরশাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকে যে কোন একজনকে আগামি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

কয়েক হাজার নেতাকর্মীর আগমনে সেনাপাড়া সড়কে চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময় এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার এসে তাদের শান্ত করেন।

রংপুরের জাপা কর্মী ও এরশাদ ভক্তদের সাথে একাত্ম হয়ে আসিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘রংপুরের মানুষের এখনো এরশাদের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরশাদের মৃত্যুর ১০ দিন না যেতেই শূন্য আসনে নগরীর বিভিন্নস্থানে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন শ্রেণির নেতারা রঙ্গিন পোস্টার ফেস্টুন লাগিয়ে আগাম নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জাহির করছে। এটা খুবই দুঃখজনক। রংপুর নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দ এরশাদ পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিষয়টি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। বিষয়টি এরশাদ পরিবারের সদস্যদের নজরে এসেছে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা এরশাদের মৃত্যুর ৪০ দিন পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ নির্বাচন করবে কিনা। নির্বাচনে অংশ গ্রহণের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা একসাথে বসে সিদ্ধান্ত নিবেন। অথচ জাতীয় পার্টির অনেক নেতাই আগাম নির্বাচনী প্রচারনায় নেমেছেন। এটি এরশাদের পরিবারকে মর্মাহত করেছে। জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনুশাসন ক্ষমতা কম থাকায় এমনটা হচ্ছে।’

তিনি কেন্দ্রীয় জাপা নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

এ সময় জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা রাজ্জাক, সুজন মিয়া, সামছুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, তারা চান রংপুর সদর আসনে এরশাদের পরিবার থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হোক। এরশাদের পরিবারে মধ্যে আসিফ শাহরিয়ারই সবচেয়ে যোগ্যপ্রাথী বলে জানান তারা ।

রংপুরের মানুষ এরশাদকে ডাকতেন পল্লীবন্ধু নামে ডাকতেন। কেউ বলতেন ‘হামাক ছাওয়াল’। এখানে তার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। বারবার সিদ্ধান্ত বদলের জন্য সমালোচিত এরশাদের কথার বিপক্ষে কখনোই যাননি নেতাকর্মীরা। তাই এরশাদ যেভাবে চেয়েছেন সবসময় সেভাবেই চলেছে জাতীয় পার্টি। এখন এরশাদ আর নেই। এরশাদের অবর্তমানে রংপুর সদর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কে হবে এ নিয়ে দল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রায় এক ডজন প্রার্থী নগরীর বিভিন্নস্থানে ব্যানার টাঙ্গিয়ে আগাম নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এরশাদের ঘোষণা অনুযায়ী জিএম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান। সদর আসনে কে নির্বাচন করবে এটি কেন্দ্রীয় নেতারাই নির্ধারণ করবেন। আগেভাগে প্রচারণা চালানো উচিত হচ্ছেনা।’

উল্লেখ্য, আসিফ শাহরিয়ার জেলা জাতীয় পার্টির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, গঙ্গাচড়া আসনের সাবেক এমপি এবং জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী একজন নেতা ছিলেন। কিন্তু বিগত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় দলের সকল পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।