রাশিয়ার ৫-০ গোলের উড়ন্ত জয়

শক্তিশালী উইং প্লে। বক্সের বাইরে বল পেলেই দারুণ সব ক্রস। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক রাশিয়া এই দুয়ের সমন্বয়ে ৫-০ ব্যবধানে সৌদি আরবকে হারিয়েছে।

এর আগে কোনো স্বাগতিক দেশ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে হারেনি। রাশিয়াও সেই ইতিহাস টিকিয়ে রাখল।

স্বাগতিকরা এদিন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজায়। সৌদি আরব মাঝমাঠে শক্তি বেশি রেখে ৪-৫-১ ফর্মেশনে যায়।

রাশিয়া নিজেদের আগের পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি। তিনটিতে হার, দুটিতে ড্র। সৌদি আরবের সেখানে দুটিতে জয় আর তিনটিতে হার ছিল।

রাশিয়া-সৌদি আরব এর আগে একবারই একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছে। সেটা ১৯৯৩ সালে। সেই ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে জিতেছিল সৌদি।

সৌদি আরব প্রথমার্ধে ৬০ শতাংশ সময় বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে।

১২তম মিনিটে এগিয়ে যায় রাশিয়া। ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ইউরি গজিনস্কি হেড দিয়ে বলে জালে পাঠান। কর্নারের পর বক্সের বাইরে ডানদিকে বল ধরেন গ্লোভিন। দারুণ একটি ক্রসে বল তুলে দেন ছয় গজ বক্সের ভেতর। গজিনস্কি ভুল করেননি হাওয়ায় ভাসানো বলে মাথা দিতে।

৪৩তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন ডেনিস চেরিশেভ। আগুয়ান দুই ডিফেন্ডারকে বিট করে বাঁপায়ের জোরালো শটে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান।

দুই গোলে পিছিয়ে বিরতি থেকে ফেরা সৌদি আরব দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচে ফেরার খুব একটা ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

শুরু থেকে রাশিয়াই আক্রমণে ঝাঁপায়। ৫১তম মিনিটে আলেক্সন্ডার সেমেদভ বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে দূর থেকেই শট নেন। বল যায় উপর দিয়ে।

৫৫তম মিনিটে সৌদির ডিফেন্ডার বাঁদিক থেকে আসা ডিফেন্সচেরা পাসে ডাইভ দিয়ে বলে পা লাগানোর চেষ্টা করেন। কয়েক সেকেন্ড দেরি করে ফেলায় ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।

৬৭তম মিনিটে রাশিয়ার আবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট হয়। বক্সের ভেতর থেকে রাশিয়ান মিডফিল্ডারের নেয়া শট সৌদির গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে ডান পাশে যায়। সেখান থেকে আরেকজন শট নিতে নিতে বল বাইরে চলে যায়।

৭১তম মিনিটে ঠিকই ব্যবধান ৩-০ হয়ে যায়। থ্র থেকে তিন পাস পর বল ধরেন রোমান জোবনিন। বক্সের ঠিক ভেতর থেকে সেই ‘সন্দেশিয়’ মাপা ক্রস। এবার এরিয়াল বলে মাথা দিয়ে জাল খুঁজে নেন আর্তেম জিউবা।