রাষ্ট্রীয় ৪৫ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৯২৯৫ কোটি টাকা, শীর্ষে বিটিআরসি


২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৪৫টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা ৯ হাজার ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি কোষাগারে লভ্যাংশ জমা দিয়েছে ২ হাজার ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। চলতি অর্থবছরের ওই সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফার পরিমাণ ৬ হাজার ১৮১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী এই তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাসিফিকেশন (বিসিআইসি) অনুযায়ী ৭টি সেক্টরে বিভক্ত করে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে অর্থনৈতিক ও অর্থিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। সাতটি সেক্টরের মধ্যে শিল্পে ৬টি; বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিতে ৫টি, পরিবহণ ও যোগাযোগে ৭টি, বাণিজ্যে ৩টি, কৃষিতে ২টি, নির্মাণে ৫টি এবং বিভিন্ন সার্ভিস সেক্টরে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

নিট মুনাফার হিসেবের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যদিও পূর্ববর্তী ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে লোকসান কমেছে। ওই বছর লোকসান ছিল ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের মুনাফা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুনাফা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলো ২ হাজার কোটি টাকা লভ্যাংশ সরকারি কোষাগারে জমা করবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই লভ্যাংশ হ্রাসের প্রাক্কলন করার অন্যতম কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি। এছাড়া দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লোকসানের সম্মুখীন হতে পারে। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম নাও হতে পারে।