রিফাত হত্যা মামলায় প্রধান আসামির জামিন নামঞ্জুর

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে এ মামলার চার আসামির জামিন আবেদন শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক এক আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইয়াসিন আরাফাত এ আদেশ দেন।

মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. মজিবুল হক কিসলু। তিনি বলেন, রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখে বরগুনা জেলা কারাগারে থাকা আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ ছাড়া এ মামলায় জামিনে থাকা নিহত রিফাতের শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিও আদালতে হাজির হন।

কিসলু বলেন, ধার্য তারিখে আদালতে এ মামলার প্রধান আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজির জামিন আবেদন করা হয়। পরে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এ ছাড়া এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজি, তানভীর হোসেন, অয়ালিউল্লাহ ওলি এবং মারুফ মল্লিকের জামিন আবেদন করা হয়। পরে আদালত শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠান তাদের জামিন আবেদন।

মজিবুল হক কিসলু আরো বলেন, এ মামলার পলাতক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. নাইমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক তিন নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত ৩ অক্টোবর বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী এ মামলার পলাতক আট অভিযুক্তের মালামাল জব্দের নির্দেশ দেন। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন মো. মুসা (২২) ও মো. নাইম (১৭)।

গত ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।