রেখার প্রেমের করুণ কাহিনী!


কি পর্দা, কি পর্দার বাইরে—বহু মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেমের গল্পের সাক্ষী বলিউড। কিছু কিছু প্রেম মানুষকে ভালোবাসার শক্তির ওপর বিশ্বাস করতে শেখায়, আর কিছু প্রেম বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানেরই ভিত কাঁপিয়ে দেয়। বলিউডের অন্যতম আলোচিত প্রেমের গল্প চিরসবুজ সুন্দরী রেখা ও একসময়ের তারকা অভিনেতা বিনোদন মেহরার।

বহুবার প্রেমে পড়েছেন চিরসুন্দরী রেখা। বহুবার তাঁর হৃদয় ভেঙেছে। অবশেষে ‘ঘর’ সহ-অভিনেতা বিনোদ মেহরার বাহুবন্ধনে থিতু হতে চেয়েছিলেন রেখা। বিনোদও খুব ভালোবাসতেন রেখাকে। তবে তাঁর পরিবার রেখাকে গ্রহণে প্রস্তুত ছিল না। আর তার প্রমাণ একবার বিনোদের মা দিয়েছেন। প্রথমবার নিজের বাড়িতে রেখাকে নিয়ে যান বিনোদ। তারপর তুলকালাম কাণ্ড।

ওই কাণ্ডের কথা উল্লেখ আছে ইয়াসের ওসমান লিখিত রেখার আত্মজীবনীতে। ইন্ডিয়া টুডের বরাত দিয়ে ইন্টান্যাশনাল বিজনেস টাইমস সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই বইয়ে লেখা আছে, কলকাতায় বিয়ে সেরে নিজ বাড়িতে রেখাকে নিয়ে যান বিনোদ মেহরা। আর তা দেখে প্রচণ্ড রেগে যান বিনোদের মা। রেখাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে পারেননি তাঁর মা। গ্রহণ করতেও প্রস্তুত ছিলেন না। যখন রেখা পা ছুঁয়ে সালাম করতে যান, বিনোদের মা তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

রেখাকে ঘরেই ঢুকতে দিচ্ছিলেন না বিনোদের মা। উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে তাঁকে অপমানকর কথা বলছিলেন। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন আরো জানায়, শুধু তাই নয়, রেখাকে মারার জন্য নিজের জুতা পর্যন্ত খুলে ফেলেছিলেন বিনোদ মেহরার মা। মাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বিনোদ। কিন্তু তাঁর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

হতাশ ও আহত হৃদয়ে ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে পড়েন রেখা। বিনোদও রেখার পিছু পিছু চলে যান। ‘গুরুদেব’ ছবির শুটিং চলাকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান বিনোদ মেহরা। এর আগে একসঙ্গে বহু সিনেমা করেছেন রেখা ও বিনোদ। তাঁদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি ‘ঘর’ ও ‘বিন্দিয়া চমকেগি’।

পরে খ্যাতনামা ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন রেখা। সংসার স্থায়ী হয়নি। ঘটে দুঃখজনক ঘটনা। বিষণ্ণতার কবলে পড়ে আত্মহত্যা করেন মুকেশ!