রোমারিওকে ছুঁয়েও বিনয়ী নেইমার


ব্রাজিল দলের জার্সিতে নেইমার ডি সিলভা কাটিয়ে দিয়েছেন এক দশক। গতকাল অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে ছুঁয়েছেন রোমারিওকে। ব্রাজিলের হয়ে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডে নেইমার ও রোমারিও দুজনেরই রয়েছে এখন সমান ৫৫টি করে গোল। দেশের কিংবদন্তি ফুটবলারের পাশে বসতে পেরে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে দেখা গেল বিনয়ী ভঙ্গিতেই।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৫৪ গোল নিয়ে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোর ওপরে। এবার এক গোল পেয়েই নেইমার ছুঁয়ে দিয়েছেন রোমারিওকে। যৌথভাবে চারে থাকলেও রোমারিও অবশ্য ৭০ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৫৫ গোল, সেখানে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ফরোয়ার্ড ৫৫ গোল পেতে খেলেছেন ৮৫ ম্যাচ।

ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার অবশ্য রোমারিওকে ভাসিয়েছেন সম্মানে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন, ‘রোমারিওকে ছুঁয়ে ফেলা এবং ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় থাকাটা আমার জন্য গর্বের, বিশাল আনন্দের উপলক্ষ।’

দুই কিংবদন্তি জিকোকে পেছনে ফেলেছেন, বসেছেন রোমারিওর সঙ্গে। নেইমারের সামনে এবার সুযোগ রোনালদো থেকে এগিয়ে যাওয়ার। সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে ছাড়াতে আর মাত্র ৮ গোল দরকার নেইমারের। ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়া পেলের ৭৭ গোলকে পেছনে ফেলতে ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের দরকার আর ২২ গোল।

সে রেকর্ড ভেঙে দিতে পারলেও নেইমারের কাছে তাঁরা থাকবেন কিংবদন্তিই। গোলগুলোকে শুধুই একটা সংখ্যা বলছেন ২৬ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এই তারকা , ‘ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল দেয়ার রেকর্ড নিয়ে লড়বার কিছু নেই। এটা শুধুই একটা সংখ্যা। তাঁরা সবাই আমার আদর্শ, তাঁরা আমার আগেই এখানে খেলে গেছেন। আর যাদের দেখে ফুটবল খেলা শিখেছি তাঁদেরকে ছাড়িয়ে যাওয়া তো সম্ভব না। আমি ওনাদের সবাইকেই খুব সম্মান করি, রোমারিও, জিকো, রোনালদো, পেলে… কারণ এঁরা সবাই আমার অনুপ্রেরণা।’

রেকর্ড নয় বরং দলের হয়ে গোল করেই সন্তুষ্ট থাকছেন নেইমার। বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার বলছেন, ‘গোলের হিসেবটা শুধুই একটা সংখ্যা। দলকে গোল করতে সাহায্য করতে পারছি এই নিয়েও আমি খুশি। কিন্তু আমি তাঁদের চেয়ে সেরা হতে চাইনা, জানি সেটা সম্ভবও নয়। তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে এবং দলের জন্য তাঁরা ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। আমি গোল করতে পেরে খুশি।’