শরীর ও মনের ক্লান্তি ঝরিয়ে দেয় লবঙ্গ

তরকারিতে মসলা হিসেবে অনেকেই লবঙ্গ ব্যবহার করেন। তাদের বেশির ভাগই হয়তো জানেন না, এটি এক ধরনের ফুল। এর উৎপত্তি ইন্দোনেশিয়ায়। তবে আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু দেশেই চাষ হয় ফুলটির।

রান্নার পাশাপাশি আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় লবঙ্গ। নানা গুণের এ ফুলটি পুষ্টির ‘পাওয়ার হাউজ’ হিসেবেও পরিচিত।

প্রায় এক গ্রাম লবঙ্গ থেকে পাওয়া যায় ৩.৫ ক্যালরি শক্তি। নেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরলও।

এতে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজ, লৌহ, সেলেনিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ রয়েছে। এটি পরিপাকনালির জন্যও বিশেষ উপকারী।

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে লবঙ্গ অতুলনীয়। তুলসী, পুদিনা, এলাচ ও লবঙ্গ মেশানো শরবত মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে।

ভিটামিন এ, সি, ই ও ক্যালসিয়াম থাকা লবঙ্গকে আস্ত অথবা গুঁড়ো অবস্থায় রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের প্রায় সব দেশেই এর ব্যবহার রয়েছে। চীনা ও জাপানিরা ধূপ হিসেবে এর ব্যবহার করে থাকে।

লবঙ্গ দাঁতের ব্যথা দূর করে; ক্ষয় নিরাময় করে মাড়ির। বেশির ভাগ টুথপেস্টের সাধারণ উপকরণ এটি।

সর্দি-কাশির মহৌষধ হিসেবে লবঙ্গ অনেক বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাইনোসাইটিস রোগ নিরাময়েও এটি বেশ উপকারী।

লবঙ্গ কম উদ্দীপক। এর সুবাস অবসাদ দূর করে, শরীর ও মনের ক্লান্তি ঝরিয়ে দেয়। যৌন রোগেও এর বহুল ব্যবহার আর্য়ুবেদিক শাস্ত্রে রয়েছে।

রক্তে শর্করা থাকা রোগীদের জন্যও উপকারী লবঙ্গ। ২০০৬ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ডায়াবেটিস রোগীরা রোজ ১ থেকে ৩ গ্রাম লবঙ্গ খেলে শর্করার পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।