শিষ্যদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বেলজিয়ামের কোচ


২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রতাপেই এগিয়ে যাচ্ছে কোচ মার্টিনেজের বেলজিয়াম দল। ১৯৮৬ সালের পর আবার তারা চলে এসেছে সেমিফাইনালের মঞ্চে। এবার নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর বেলজিয়ামের স্বর্ণালি প্রজন্মের ফুটবলাররা। সেই ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে এবার বেলজিয়ামের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম ও ফ্রান্স।

ফ্রান্সকে হারাতে পারলেই বেলজিয়াম গড়তে পারবে ইতিহাস। প্রথমবারের মতো চলে যাবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটির আগে কোচ মার্টিনেজ বলছেন, বেলজিয়াম আগামীকালের ম্যাচটিতে তাঁদের সমশক্তিধর একটি প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। তাঁর মতে, আগে বিশ্বকাপে যেকোনো ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত কৌশল ও প্রতিভা একটি দলকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করত, কিন্তু এখনকার ফুটবলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পুরো দলের ঐক্যবদ্ধ খেলাই এখন দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম। এই দলবদ্ধ খেলায় সাফল্য কুড়িয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফ্রান্স। সেই ধারাবাহিকতায় কোচ মার্টিনেজও তাঁর দলকে নিরন্তর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে সেমিফাইনাল খেলার জন্য তৈরি করছেন। তিনি আরো বলছেন, দলে যেমন লুকাকু, হ্যাজার্ড ও ডি ব্রুইনের মতো গতিময় ফুটবলার আছে, ঠিক সেভাবেই ফ্রান্সেরও এমবাপে ও গ্রিজম্যানের মতো কৌশলী খেলোয়াড় আছে। এ যেন বেলজিয়ামের এক অজানা গন্তব্যে হেঁটে যাওয়ার মতো।

নকআউট সেশনে ফ্রান্সের গতিময়তার কাছে হার মেনেছিল মেসি, ডি মারিয়ার আর্জেন্টিনা। ঠিক একই রকমভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে হট ফেভারিট ব্রাজিলের হেক্সা মিশন থেমে যায় গতিময় বেলজিয়ামের কাছে এবং খেলোয়াড়দের চেয়ে ম্যাচটাতে মনে হচ্ছিল যেন তিতে হেরে যাচ্ছে মার্টিনেজের কৌশলের কাছে।

কোচ মার্টিনেজ আরো বলেছেন, খেলোয়াড়রা যার যার পজিশন নিয়ে সচেতন হয়ে খেলবে এবং যেকোনো অবস্থায় দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যাবে না। তবুও কোচ মনে করছেন, এ যেন চাঁদে ভ্রমণের মতো সব সময় সৃষ্টি হতে পারে বিভ্রমের। তবে যাই হোক, বেলজিয়ামের এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে তারা বিশ্বকাপ জয়ের জন্য যোগ্যতর প্রমাণিত হবে এবং তা হয়ে গেলে প্রথমবারের মতো বেলজিয়াম বিশ্বকাপজয়ী হতে পারবে। বিশ্ববাসী এক নতুন চ্যাম্পিয়ন দেখার সুযোগ পাবে।