শীতে ত্বকের যত্নে ৭ তেল

সকল প্রকারের ত্বক বিউটি অয়েল বা সৌন্দর্যবর্ধক তেল থেকে উপকার পেতে পারে। ঠান্ডা মৌসুমে কিছু তেল ব্যবহার করলে ত্বকে আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় থাকে, লোমকূপ থেকে ময়লা দূর হয়, দাগ কমে ও উজ্জ্বলতা বাড়ে। এখানে শীতকালে ত্বকের পরিচর্যায় সহায়ক এমন ৭টি তেল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

রোজহিপ অয়েল: বিটা-ক্যারোটিন, রেটিনয়েক অ্যাসিড ও এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডে (ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬) সমৃদ্ধ একটি তেল হচ্ছে রোজহিপ অয়েল। ত্বক রক্ষাকারী এ তেল তার পুষ্টিকর উপাদানের জন্য খ্যাত হয়েছে। সাধারণত শুষ্কতা ও বয়সজনিত ত্বকের দুর্দশা কমাতে এ তেল ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, অর্গানিক রোজহিপ অয়েল ত্বকের ক্ষতজনিত দাগ ও বলিরেখার উপস্থিতি কমাতে পারে। আপনার ত্বকে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগের পূর্বে রোজহিপ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

পামকিন সিড অয়েল: অর্গানিক পামকিন সিড অয়েল বা কুমড়া বীজের তেলে প্রচুর পরিমাণে ত্বক নরমকারী ভিটামিন ই, দাগ দূরকারী জিংক, ফ্রি রেডিক্যাল বিতাড়ক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও স্বাস্থ্যকর ওমেগা রয়েছে। যাদের ব্রণ, শুষ্কতা ও বয়সজনিত ত্বকের সমস্যার প্রবণতা রয়েছে তাদের জন্য এ তেল বিশেষ উপকারী। কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই আপনার মা, স্ত্রী ও কন্যাকে এ তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।

পমিগ্রানেট সিড অয়েল: পমিগ্রানেট সিড অয়েল বা ডালিম দানার তেলে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ওমেগা ৫ ফ্যাটি অ্যাসিড (পিউনিসিক অ্যাসিড), প্রদাহরোধী উপাদান ও বয়সজনিত ত্বকের দুর্দশা প্রতিরোধক উপাদান রয়েছে। এ তেল কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে ও ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যাল কমিয়ে ফেলে, ফলে ত্বক অকালে বুড়িয়ে যায় না। এ তেল নতুন কোষ সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখে, যা ত্বকের নমনীয়তা বাড়াতে ও বয়সজনিত দাগ বা কপালের ভাঁজ বা বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে তারুণ্যসুলভ রাখতে আপনার বিউটি রুটিনে পমিগ্রানেট সিড অয়েল রাখতে পারেন।

হিবিসকাস অয়েল: কোল্ড-প্রেসড হিবিসকাস অয়েল বা জবা তেল তৈরি করা হয় জবার পুষ্টিকর বীজ থেকে। এ তেলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন ই ও এসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে- এসবকিছু ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত রাখে। ত্বকে আর্দ্রতার মাত্রা বাড়াতে, ত্বকের ভাঁজ কমাতে ও ত্বকের নমনীয়তা বাড়াতে রাতে এ তেল মাখতে পারেন।

সানফ্লাওয়ার অয়েল: সানফ্লাওয়ার অয়েল বা সূর্যমুখী তেল কেবল রান্না নয়, আপনার ত্বকের যত্নেও এ তেল ব্যবহার করতে পারেন। সূর্যমুখী তেলে প্রচুর পরিমাণে লিনোলিক অ্যাসিড, টকোফেরল, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন ই থাকে। রান্নার জন্য অতি স্বাস্থ্যকর এ তেল শীতকালীন ত্বকের সমস্যা প্রশমনে আর্দ্রতা বৃদ্ধি ও কোমল করতে পারে। এটি টি ট্রি ও ব্লু ট্যানসি এসেনশিয়াল অয়েলের জন্য চমৎকার ক্যারিয়ার অয়েল।

ব্ল্যাক কামিন সিড অয়েল: প্রাচীন মিশর থেকে ব্ল্যাক কামিন সিড অয়েল বা কালো জিরা তেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। নীলের রানি ক্লিওপেট্রা ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে এ তেল ব্যবহার করতেন। এটি প্রদাহ উপশম করে, নিরাময় দ্রুত করে, সিবাম উৎপাদনে ভারসাম্য আনে ও ত্বকের লোমকূপকে পরিষ্কার করে। ব্রণের প্রাদুর্ভাব দমাতেও এ তেল কার্যকর। আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক গর্ত বা লোমকূপ সহজে বন্ধ হয়ে গেলে অথবা ব্রণের প্রবণতা থাকলে ত্বকের সুরক্ষায় নিয়মিত ব্ল্যাক কামিন সিড অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের দাগ দূর করতে এমন ফেস অয়েল ব্যবহার করতে পারেন যেখানে ব্ল্যাক কামিন সিড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ও লিকোরিস রুটের সমন্বয় রয়েছে।

টি ট্রি অয়েল: যেসব তেল নিয়ে ভালোভাবে গবেষণা করা হয়েছে তাদের একটি হচ্ছে টি ট্রি অয়েল এবং ডার্মাটোলজিতে এই তেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এই শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল তেলটি সংগ্রহ করা হয় টি ট্রি এর পাতা থেকে (যে চা গাছ থেকে গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি তৈরি করা হয় সেটা নয়)। ব্রণের কার্যকর ঘরোয়া চিকিৎসা ও বেনজোয়েল পারঅক্সাইডের মৃদু বিকল্প হিসেবে তিন থেকে পাঁচ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল ২০ থেকে ৪০ ফোঁটা হ্যাজেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল ব্যবহারে ত্বকের সৌন্দর্য বেড়ে যায়, কিউটিকল বা নখের গোড়ার ত্বক নরম হয় ও অ্যাথলেটি’স ফুট সেরে ওঠে।