শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিদেশী সাহায্য ছাড়াই সফল বাংলাদেশ

বিদেশী ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আয় বাড়ানোর যে পরিকল্পনা সরকারের ছিল গত কয়েক বছরে তা অনেকাংশে সফল হয়েছে। পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প এখন নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে। এর মূলে রয়েছে রাজস্ব আয়ের বড় উলম্ফন।

বাসসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত পাঁচ বছর রাজস্ব আয় গড়ে ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯ হাজার ১৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৭৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।

আয়কর মেলাসহ এনবিআরের নানামুখী উদ্ভাবনী উদ্যোগ রাজস্ব আহরণের সাফল্যের পেছনে চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছে কর প্রশাসন। এই সময়ে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি করদাতার সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মুখ্যসচিব এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, আগে জনগণের মধ্যে করভীতি ছিল। সেই ভীতি কেটেছি। মানুষ এখন কর দিতে চাই। কর প্রশাসন জনবান্ধব প্রশাসনে পরিণত হয়েছে। এর ফল হিসেবে রাজস্ব আয় ও করদাতার সংখ্যা বেড়েছে।

এনবিআরের তথ্যমতে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সংগৃহিত এক লাখ ৯ হাজার ১৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার রাজস্ব আয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয় ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৫ হাজার ৭০০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এবছর প্রবৃদ্ধি হয় ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৫৫ হাজার ৫১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য আসে। রাজস্ব আয় হয়-এক লাখ ৮৫ হাজার ৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। গতবছরই বেশি প্রবৃদ্ধি হয়- ১৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

বিগত পাঁচ বছরে আহরিত রাজস্বের মধ্যে-আমদানি ও রপ্তানি পর্যায় (শুল্ক খাত) অবদান ছিল ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে আসে ৩৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং আয়কর খাতের অবদান ৩৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।