শেষ পর্যায়ে বিক্রির ধুম লেগেছে একুশের গ্রন্থমেলায়


শেষ পর্যায়ে এসে অমর একুশের গ্রন্থমেলায় বিক্রির ধুম লেগেছে। আজ এবং গতকাল এ দু’দিনে বিক্রি ছিল এবারের মেলায় সর্বোচ্চ। ছুটির দিন হওয়ায় স্টলে-স্টলে ক্রেতার ভিড় লেগে যায়। বিক্রেতারা জানায়, এখন মেলায় আসছেন ক্রেতারা। কমবেশি অনেকেই বই কিনছেন।

গ্রন্থমেলায় আজ ছিল সর্বশেষ শিশু প্রহর। সকাল থেকেই শিশুদের পদচারণায় মেলাঙ্গন ভিন্ন আমেজে মুখর হয়ে উঠে। দিনভর শিশুরা বড়দের সাথে মেলা উপভোগ করার পাশপাশি ঘুরে-ঘুরে বই সংগ্রহ করেছে। মেলায় এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক শিশুতোষ নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে।

এ দিকে এবারের একুশের গ্রন্থমেলার আর মাত্র চারদিন বাকি। প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক নতুন বই মেলায় আসছে। আজ নতুন বই এসেছে ২৫৬টি। এ নিয়ে মেলার ”ব্বিশ দিনে নতুন বই প্রকাশ হলো ৩ হাজার ৯ শত ৮৪টি। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে কবিতা এবং পরই রয়েছে উপন্যাস।

আজ প্রকাশিত উল্লেখ্যযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশে মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ সম্পাদিত জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলো, সেলিম আল দীনের ‘বাংলা নাট্য কোষ’ হাওলাদার প্রকাশনী,আখতার হুসেনের ‘ছোটদের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ’ বটেশ্বর বর্ণন, জ্যোতি প্রকাশ দত্ত’র ‘সময় ভোলে না কিছু মানুষের ভুল’, পুঁথি নিলয়,আসাদুজ্জামান নূর’এর ‘বেলা অবেলা সারাবেলা’ সময় প্রকাশনে, ’অনুপম প্রকাশনীতে রাকিব হাসানের টেলিভিশন সাংবাদিকতা’ কাজী মিজানরু রহমানের ‘আমার বর্ণমালা ’ শ্রাবণ প্রকাশনী’। নির্মলেন্দু গুণের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ বিভাস, নবযুগ এনেছে সাজ্জাদ হোসেন সম্পাদিত ‘ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্ব।

আজ সকালে বাংলা একাডেমিতে পাঁচটি বিভাগে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিকেলে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘দেশ ভাগের সত্তর বছর’ শীর্ষক আলোচনা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনামুল হক। সভাপতিত্ব করেন ভাষা সৈনিক ও সংস্কৃতিজন কামাল লোহানী। আলোচনায় অংশ নেন সংস্কৃতিজন ও অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম ও নূর জাহান বোস। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।