শ্রমিকদের মজুরি সমন্বয় করার ঘোষণা

আন্দোলনের মুখে পোশাকশ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি কাঠামোর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের শ্রমিকদের জন্য মজুরি সমন্বয় করার ঘোষণা দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ঘোষিত বেতন কাঠামোতে এই তিন গ্রেডের শ্রমিকদের মজুরি আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়ায় তা সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান মজুরি সমন্বয়ের ঘোষণা দেন।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বৈঠকে জানানো হয়, গার্মেন্টস শিল্প এবং এ খাতের শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার দ্রুত ত্রিপক্ষীয় মজুরি সমন্বয় কমিটি গঠন করে কাজ করে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে শ্রমিকদের স্বার্থে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে মজুরি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বৈঠকে।

সবপক্ষের সহযোগিতায় কমিটি একটি সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়ে বৈঠকে জানানো হয়।

দেশের স্বার্থে গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে এবং শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়নের স্বার্থে শ্রমিকরা আজই কাজে যােগ দেবেন বলে আশা করছে সরকার।

সরকার ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন না করায় গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় পোশাকশ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছে।

সবপক্ষের সাথে আলোচনা করে আগামী একমাসের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। কিন্তু তারপরও অনেক কারখানায় কাজে ফিরেনি পোশাকশ্রমিকরা।

এরই মধ্যে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ঘোষণা দিয়েছে, সোমবারের মধ্যে যেসব পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে ফিরবে না, সেসব কারখানা শ্রম আইন মোতাবেক বন্ধ ঘোষণা করা হবে। শ্রমিকরাও এই বন্ধ সময়ের জন্য কোনো মজুরি পাবে না।

বিদ্যমান মজুরি কাঠামোর ৫ বছর পর গত ২৫ নভেম্বর পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন ওই মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল সেখানে।

তবে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হওয়ার পর দেখা যায়, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের শ্রমিকদের বেতন গত ৫ বছরের ইনক্রিমেন্টসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমে গেছে। আর অন্যদের খুবই সামান্য পরিমাণ বেড়েছে। এতেই বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শ্রমিকরা।

গত বছরের ১৪ জানুয়ারি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছিল সরকার। স্থায়ী ৪ সদস্যের সঙ্গে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ও শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত এই মজুরি বোর্ড সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মজুরি নির্ধারণ করা হয়।