‘সাত দিন পর দরখাস্ত দিলেন কেন?’ আইনজীবীকে বিচারকের তিরস্কার


ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি আবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ওসি মোয়াজ্জেমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির না করায় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৭ জুলাই দিন ধার্য করেন।

গতকাল অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওসি মোয়াজ্জেমকে কাশিমপুর কারাগার থেকে হাজির না করায় শুনানি হয়নি। গত ৩০ জুন শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু আসামি পক্ষ থেকে সময় চাওয়ায় তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

৩০ জুন আসামির পক্ষে তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ মামলায় জব্দকৃত আলামত ওসি মোয়াজ্জেমের ধারণ করা ভিডিও চিত্রের কপি সরবরাহের জন্য আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। গতকাল অ্যাডভোকেট ফারুক ট্রাইব্যুনালকে তিনি যাতে পেনড্রাইভে বর্ণিত ভিডিওর কপি দ্রুত পান সেজন্য তাগিদ দেওয়ার আবেদন জানান। এ সময় বিচারক খেপে যান। বিচারক প্রশ্ন করেন, পেনড্রাইভ আপনাকে দিতে আদেশ হয়েছে কবে? আইনজীবী উত্তর দেন, গত ৩০ জুন।

বিচারক আবার প্রশ্ন করেন, নকলখানা থেকে এটা সরবরাহ নেওয়ার জন্য আপনি দরখাস্ত করেছেন কবে? আইনজীবী উত্তর দেন, ৭ জুলাই। বিচারক খেপে গিয়ে বলেন, সাত দিন পর দরখাস্ত দিলেন কেন? বিচার বিলম্বিত করতে? বিচারক বলেন, আজ আসামিকে বিশেষ কারণে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি। আসামি এলে আপনি আবার সময়ের আবেদন করে বলতেন, পেনড্রাইভের কপি পাননি এই অজুহাতে।

আইনজীবী বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কীভাবে নকল পাবো?’ বিচারক বলেন, ‘আপনার বোঝার দরকার নেই। আপনি একটা সিডি বা পেনড্রাইভ জমা দেবেন। নকল কিভাবে সরবরাহ করা হবে তা নকলখানা বুঝবে। পরে বিচারক মোয়াজ্জেমের আইনজীবীকে বলেন, মামলা বিলম্ব করার চেষ্টা করবেন না।

গত ১৬ জুন হাইকোর্ট থেকে বের হওয়ার পর শাহবাগ এলাকা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সোনাগাজী থানা পুলিশ ওসিকে ১৭ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির করেন। ওইদিন মোয়াজ্জেমের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে ওই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন এই ট্রাইব্যুনাল। আগের দিন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেমের অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমান পাওয়া যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।