সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপিত

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ উল আজহা উদযাপিত হয়েছে আজ। রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ উল আজহার প্রধান জামাত।

রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য বিশিষ্ট নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষ ঈদের প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করেন। এছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারামে ঈদের প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়।

হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল আটটায় ঈদের প্রধান জামাত। বরাবরের মত এবারও ঈদগাহ জামাতে শরিক হতে মুসল্লিদের আগ্রহের কমতি ছিলো না। তাই ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই রাজধানীর নানা প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসতে থাকেন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। উদ্দেশ্য ঈদ উল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করা।

নতুন জামা কাপড়ে মেখে আসা সুগন্ধি পবিত্রতা ছড়িয়ে দেয় সকালের বাতাসে। নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ের জন্য প্রতিটি প্রবেশ পথেই ছিল নিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একসময় মুসল্লিতে ভরে যায় পুরো ময়দান। বৃষ্টি না থাকায় ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তায় বিস্তৃত হয় ঈদগাহের জামাত। নামাজের আগে দেওয়া বয়ানে কেরাবানীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য তুলে ধরেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মওলানা সালাউদ্দিন।

প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশী কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার বন্দি হয়ে সবাই একত্রে ৬ তাকবীরে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

খুতবা শেষে দেশ ও দেশের মানুষের বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণকারীদের জন্য মঙ্গল কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে।

মোনাজাত শেষে একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন মুসল্লিরা।

নামাজ আদায় করতে শিশুরাও এসেছিল বড়দের হাত ধরে। ঈদের নামাজে অংশ নেয়ায় তাদেরও ছিল বাঁধ ভাঙা আনন্দ।

এর আগে সকাল সাতটায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানেই পরবর্তী ১ ঘণ্টা পর পর ৪টি ঈদ উল আজহার জামাত হবে। মসজিদ ছাড়িয়ে সামনের রাস্তায় বিস্তৃত হয় জামাত। নামাজে অংশ নেন হাজারো মুসল্লি। নামাজ শেষে এখানেও মহান আল্লাহর কাছে নিজের ও দেশের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

ঈদ উল আজহা ত্যাগের, তাই ত্যাগের এই মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশে যেনো সব সময় শান্তি বজায় থাকে সে প্রত্যাশা সকলের।