সীতাকুণ্ডে এবার মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবার এক মাদরাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড রেলওয়ে কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. ইমরান হোসেন রিয়াদ (২৮)। তিনি ওই কলোনির অস্থায়ী বাসিন্দা সরোয়ার হোসেনের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি ফেনী সদর এলাকায়।

এদিকে এভাবেই গত ৯ দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তিনজন খুন হয়েছেন। বারবার খুনের ঘটনায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৭-৮ জনের দুষ্কৃতকারী দল সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ে কলোনির রিয়াদের বাড়িতে গিয়ে দরজা ধাক্কা দেয় এবং বাইরে শব্দ করে। এতে রিয়াদ ঘর থেকে বের হয়ে বাধা দিতে চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। পরে তার পরিবারের সদস্যরা রিয়াদকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চমেকে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রিয়াদ সীতাকুণ্ড সদরে অবস্থিত আলিয়া কামিল মাদরাসায় ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক।

বাড়বকুণ্ডের ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী বলেন, আমরা ধারণা করছি মাদকাসক্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা রিয়াদের ঘরের বাইরের লাইটটা ভেঙে ফেলেছিল। এই শব্দ শুনে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে এসে বকাবকি করায় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলওয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

ঘটনাটি ডাকাতি কি-না জানতে চাইলে ওসি বলেন, এটি ডাকাতি নয়। তারা কোনো কিছুই নিয়ে যায়নি। এমনকি ঘরে প্রবেশের চেষ্টাও করেনি। শুধু তিনি বাইরে আসার পর তাকে কুপিয়েছে। নিহতের পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি দেলওয়ার হোসেন বলেন, কিছু মাদকাসক্ত ব্যক্তি রেললাইনে সব সময় বসে নেশা করত। রিয়াদ তাদেরকে বাধা দিত। এ নিয়ে তাদের সাথে রিয়াদের কিছুটা মনোমালিন্য ছিল। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি-না আমরা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে শিক্ষক রিয়াদের এই নির্মম খুনের ঘটনায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গত ৯ দিনে এখানে এক যুবলীগ নেতা, এক ৬ বছরের শিশু ও সর্বশেষ শিক্ষক খুন হওয়ায় এলাকাবাসী সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে মনে করছে। এবং ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে দিবালোকে যুবলীগ নেতা দাউদ সম্রাট খুন হলেও একজন আসামিও গ্রেপ্তার না হওয়ায় চারিদিকে খুনিরা উৎসাহিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। তাই যুবলীগ নেতা দাউদসহ শিক্ষক রিয়াদের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে সচেতন মহল মনে করেন।