সুখী দম্পতির মৃত্যুর পর জানা গেল তাদের কুকীর্তি!


স্বামী পেশায় সঙ্গীত শিক্ষক। স্ত্রী লেখিকা। সুখের সংসার তাদের। দুজনকেই অতি সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই জানতেন প্রতিবেশী-আত্মীয়-সহকর্মীরা। তাদের যে এমন ‘গুণ’ ছিল সেটা কে জানত? ৩১ বছর আগে মিউজিয়াম থেকে এই দুজন চুরি করেন দুষ্প্রাপ্য পেইন্টিং। সেই পেইন্টিংই এতবছর ধরে সংরক্ষিত ছিল সেই দম্পতির বেডরুমে। মৃত্যুর পর প্রকাশিত হল সেই সত্যি।

মেক্সিকোর বাসিন্দা জেরি অল্টার ও রিটা অল্টার। ২০১২ সালে জেরি অল্টার ও পাঁচ বছর পর রিটা অল্টার মারা যান। রিটা মারা যাওয়ার পর ভাগ্নে রন রোসেম্যান বাড়ির বিষয়সম্পত্তি বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। বাড়িটির প্রাচীন জিনিস দেখতে এসে ডিলারদের পেইন্টিংটি দেখে সন্দেহ হয়। পেইন্টিং সম্পর্কে জানতেই তদন্ত শুরু করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় ৩১ বছর আগে এই একই রকম একটি পেইন্টিং টাকসনের অ্যারিজোনা মিউজিয়াম অফ আর্টস থেকে চুরি যায়। সেদিন এই দম্পতিও টাকসনেই উপস্থিত ছিল। নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওইদিন একজন পুরুষ ও একজন নারী এসেছিলেন। নারী গার্ডের সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত ছিলেন। সঙ্গী পুরুষ ওপর থেকে ঘুরে আসার পর দুজনেই চলে যায়।

পরে নিরাপত্তারক্ষীরা ওপরে একটি খালি ফ্রেম আবিস্কার করেন, যাতে উইলিয়ম ডি কুনিংয়ের ‘Woman-Ochre’ ছবিটি ছিল। ফ্রেম থেকে বহুমূল্য ছবিটি উধাও হয়ে গিয়েছিল | সে যুগে সিসিটিভি বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবহার না থাকায় চোরকে ধরা যায়নি। তবে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন এই দম্পতি।

দম্পতির মৃত্যুর পর খবর পেয়ে আবারও সেই চুরির তদন্ত শুরু করে এফবিআই। পেইন্টিং ফের মিউজিয়ামে ফেরত পাঠানো হয়। এই সিরিজের আরেকটি ছবি ২০০৬ সালে ১৩৭ মিলিয়ন ডলার বিক্রি হয়।

জেরি অল্টার নিউ ইয়র্কের একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ভ্রমণপিপাসু দম্পতি ভ্রমণ করেছেন ৭ মহাদেশের ১৪০ টি দেশ।
রিটা অল্টার ৮১ বছর বয়সে ২০১৭ সালে মারা যান। তিনি নিউ মেক্সিকোতে আসার পর একজন ডাক্তার হিসেবে কাজ করেছেন।