সুরকার আলাউদ্দিন আলীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক ও সুরকার আলাউদ্দিন আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার এক শোকবার্তায় তিনি দেশের সংগীত জগতে আলাউদ্দিন আলীর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বাংলা গানের বিশিষ্ট সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইন্তেকাল করেন।

শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে গেলে গতকাল শনিবার‍ ভোরে তাঁকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি।

লোকজ ও ধ্রুপদি গানের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা আলাউদ্দিন আলীর সুরের নিজস্ব ধরন, বাংলা সংগীতে এক আলাদা ঢং হয়ে উঠেছিল প্রায় চার দশক ধরে। শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারত ও পাকিস্তানের অনেক স্বনামধন্য শিল্পী তাঁর সুরে গান করে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছেন।

অগণিত জনপ্রিয় গানের প্রখ্যাত এই সুরকার ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন দীর্ঘদিন। ২০১৫ সালের ৩ জুলাই আলাউদ্দিন আলীকে প্রথম ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁর ফুসফুসে টিউমার ধরা পড়ে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসাও চলছিল। এর আগে বেশ কয়েক দফায় তাঁকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

আলাউদ্দিন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান সৃষ্টি করেছেন। তিনি একই সঙ্গে সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার। গান লিখে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘদিন।

এ পর্যন্ত আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন আলাউদ্দিন আলী। তাঁর সুর করা গানের সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি। তাঁর কালজয়ী গানের অন্যতম—ও আমার বাংলা মা তোর, সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি, বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম দেখা পাইলাম না, যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, এমনও তো প্রেম হয় প্রভৃতি।