সেরার তালিকায় মাশরাফি, তামিম ও মুশফিক


মাত্রই শেষ হলো বিপিএলের ষষ্ঠ আসর। আসর শেষ হলেও বিপিএল নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন-ক্রিকইনফো টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটিং, বোলিং ও ক্যাচগুলো বাছাই করেছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক বিপিএলের সেরা পারফরম্যান্সগুলো।

বোলিং

রবি ফ্রাইলিঙ্ক (১৪/৪, বনাম রংপুর রাইডার্স) : টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটায় চিটাগং ভাইকিংস। ওপেনিং স্পেলে দক্ষিণ আফ্রিকান মিডিয়াম পেসার রবি ফ্রাইলিঙ্কের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট হয় রংপুর। ফ্রাইলিঙ্ক নেন ১৪ রানে ৪ উইকেট।

মাশরাফি বিন মুর্তজা (১১/৪, বনাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) : প্রথম পর্বে কুমিল্লার বিপক্ষে স্বপ্নের মতো শুরু পায় রংপুর রাইডার্স। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৬.৪ ওভারের মধ্যে মাশরাফি তুলে নেন তামিম, ইমরুল, এভিন লুইস ও স্টিভেন স্মিথের উইকেট। ম্যাচে মাশরাফির ১১ রানে ৪ উইকেট শিকারে মাত্র ৬৩ রানে অলআউট হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।

অ্যালিস আল ইসলাম (২৬/৪, বনাম রংপুর রাইডার্স) : জীবনের প্রথম বড় ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েন ঢাকা ডায়নামাইটসের স্পিনার অ্যালিস আল ইসলাম। বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে ফেলেন এই স্পিনার। তরুণ এই বোলার ম্যাচে ২৬ রানে ৪ উইকেট নিলে রংপুরের বিপক্ষে প্রায় অসম্ভব অবস্থা থেকে জয় পায় ঢাকা।

ব্যাটিং

তামিম ইকবাল (অপরাজিত ১৪১, বনাম ঢাকা ডায়নামাইটস) : এই ইনিংসটার কথা কখনোই ভুলতে পারবেন না তামিম ইকবাল। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে মোটামুটি খেললেও ফাইনালে নিজের সেরাটা দেখান তামিম। ক্যারিয়ারের প্রথম বিপিএল ফাইনালে মাত্র ৬১ বলে করেন অপরাজিত ১৪১ রান। তামিমের অবিস্মরণীয় ইনিংসের কল্যাণে দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।

মুশফিকুর রহিম (অপরাজিত ৬৪, বনাম রাজশাহী কিংস) : রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে চিটাগং ভাইকিংসের জয়ের লক্ষ্য ছিল ১৫৯ রান। তবে রাজশাহীর ধারালো বোলিংয়ের বিপক্ষে শুরুতেই চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় ভাইকিংসরা। কিন্তু মুশফিকুর রহিম খেলেন অপরাজিত ৬৪ রানের অধিনায়কোচিত এক ইনিংস। পঞ্চম উইকেট জুটিতে মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ৮৮ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে ভেড়ান মুশফিক।

লরি ইভান্স (অপরাজিত ১০৪, বনাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) : কুমিল্লার বিপক্ষে লিগ পর্বের ম্যাচে শুরুতেই টপাটপ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী কিংস। কিন্তু দলের হাল ধরেন নিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১৩ রান করা ইংলিশ ব্যাটসম্যান লরি ইভান্স। সেই ম্যাচে বিপিএলের এবারের আসরে প্রথম শতরান করে ১০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ইভান্স। তাঁর অসাধারণ ইনিংসে টুর্নামেন্টে চতুর্থ জয় পায় রাজশাহী কিংস।

ক্যাচ

জেসন রয় (সিলেট সিক্সার্স বনাম চিটাগং ভাইকিংস) : সিলেট সিক্সার্সের ইংলিশ খেলোয়াড় জেসন রয় বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করে টুর্নামেন্টে দুটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরেছেন। তবে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলির ক্যাচটি এককথায় অবিশ্বাস্য। অলক কাপালির বলে নিশ্চিত ছক্কা হতে যাওয়া বলটি মিড উইকেটে বাজপাখির মতো উড়ে গিয়ে এক হাতে ছোঁ মেরে ধরে ফেলেন রয়। ক্যাচটি পরবর্তী সময়ে বিপিএলের ইতিহাসেই অন্যতম সেরা ক্যাচের মর্যাদা পায়।

আন্দ্রে রাসেল ও কায়রন পোলার্ড (ঢাকা ডায়নামাইটস বনাম রংপুর রাইডার্স) : রংপুরের ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের মারা বলটি লংঅফ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল সীমানার বাইরে। কিন্তু আন্দ্রে রাসেল উড়ন্ত অবস্থায় বাউন্ডারির বাইরে থেকে বলটি ধরেন। পরে শরীরের ভারসাম্য না রাখতে পেরে মাঠে ছুড়ে মারেন সেই বল। লংঅন থেকে দৌড়ে গিয়ে বল তালুবন্দি করেন কায়রন পোলার্ড। বিপিএল দেখে অসাধারণ এক রিলে ভঙ্গির ক্যাচ।

আফিফ হোসেন (সিলেট সিক্সার্স বনাম রাজশাহী কিংস) : সিলেটের সোহেল তানভিরের বলে সুইপার কভার দিয়ে উড়িয়ে মেরে ছক্কা পাওয়ার আশায় আয়েশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজশাহী কিংসের লরি ইভান্স। কিন্তু তরুণ আফিফ হোসেন বলটি উড়ে গিয়ে ধরে ফেলেন। ভারসাম্য রাখতে না পেরে বাউন্ডারির বাইরে চলে যাওয়ার আগেই বলটি মাঠের ভেতরে ছুড়ে মারেন। দৌড়ে গিয়ে নিজেই আবার সেই বল ধরে ফেলে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এক ক্যাচ ধরেন আফিফ।