স্ত্রীর মর্যাদা পেতে শ্বশুরবাড়িতে তরুণীর অবস্থান

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্ত্রীর সামাজিক মর্যাদা পেতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন মেহরিন সুলতানা (২০) নামের এক তরুণী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার মণ্ডুতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়ায় ওই তরুণী অবস্থান নেন।

মেহরিন সুলতানা উপজেলার নৌবাড়িয়া গ্রামের রবিউল করিমের মেয়ে।

এ ঘটনায় মেহরিনের বাবা রবিউল করিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের সূত্রে পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কলেজছাত্রী মেহরিন সুলতানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মেহরিন। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে খাইরুল ইসলামের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে মেহরিন গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন। পরে দুজনে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল পাবনার আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এবং একই দিনে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে কাজি অফিসের মাধ্যমে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ের কাবিন ও কোর্টের এফিডেভিটের কাগজপত্র নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন। তিনি নিজেকে খাইরুলে স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। তখন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে মারধর করে বের করে দেয়। তারপরও মেয়েটি ওই বাড়ির উঠানে বসে থাকেন। ততক্ষণে মেয়েটির স্বামী খাইরুল ইসলাম তাঁকে ফেলে পালিয়ে যান। ঘটনাটি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোদাচ্ছের হোসেন ঘটনাস্থলে যান।

তবে বিষয়টি নারী ও শিশু অধিকার সম্পর্কিত হওয়ায় মেয়েটিকে আইনগত সহায়তা দিতে পারেননি বলে জানান ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন।

মেহরিন সুলতানা জানান, এক বছর আগে খাইরুলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে তাদের একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। মেহরিন গর্ভধারণও করেন। তখন খাইরুল শর্ত দেন যে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট না করলে তাঁকে বিয়ে করবেন না। তখন তিনি গর্ভপাত করতে বাধ্য হন।

মেহরিন আরো জানান, তাঁকে স্ত্রী হিসেবে মেনে না নিলে আত্মহত্যা করবেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসনাত জাহান বলেন, ‘সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায় কিন্তু ছেলের বাবা বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় আদালতের আশ্রয় নিতে মেয়ের বাবাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

খাইরুলের বোন আশা পারভীন বলেন, ‘মেয়েটি ষড়যন্ত্র করে আমার ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। মেয়েটির স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। তাই তাঁকে কোনোভাবেই পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ির গৃহবধূ হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব না। প্রয়োজনে আমরা আইনের সহায়তা নেব।’

এদিকে, আজ বুধবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়েটি তাঁর শ্বশুরবাড়ির উঠানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।