স্বামীর অন্য সম্পর্ক


মানুষ স্বভাবতই বহুগামী। সামাজিক নিয়মে বিয়ে হয় একজনের সঙ্গে। আশা করা হয় তাকে ভালোবেসেই কেটে যাবে সারাটা জীবন। কিন্তু একপক্ষ যখন কোনো অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তখন তা অন্য পক্ষের জন্য হয় তীব্র যন্ত্রণার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের সম্পর্কের ভিত হয় সাময়িক আকর্ষণ এবং বিবাহিত জীবন একঘেয়ে হয়ে যাওয়ার জন্য।

ইংরেজিতে একটা কথা আছে ‘Nature abhors vacuum’ অর্থাৎ প্রকৃতিতে শূন্যতার কোনো স্থান নেই। আপনার এবং আপনার স্বামীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কখনো কখনো এইরকম ছোট ছোট শূন্যতা তৈরি হয়। এইসব শূন্যতার ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক দুর্বল মুহূর্তে আপনার স্বামী জড়িয়ে যেতে পারেন অন্য কোনো সম্পর্কে।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষটি নিজের ঘর ভাঙার কথা ভাবেন না। কিছুদিন পরেই মোহ কেটে যায় এবং তিনি ফিরে আসতে চান। কিন্তু লজ্জা এবং দাম্পত্যের তিক্ততার কারণে তিনি ইতস্তত করেন। এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে স্ত্রী হিসেবে খুব ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলান।

* সারাক্ষণ কোথায় যাচ্ছ, কোথা থেকে এলে এই ধরনের প্রশ্ন করবেন না কারণ আপনি নিজেই জানেন তিনি সত্য বলছেন না। ফলে আপনি সহজেই মিথ্যাগুলো প্রমাণ করতে পারবেন। আর এই প্রমাণ থেকেই তার গ্লানি বেড়ে যাবে। এবং তখন উনি আপনাকে এড়িয়ে যেতে চাইবেন। তাই তার গতিবিধির পরিবর্তন নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না।

* বারবার স্বামীর অফিসে ফোন করে খোঁজ নেবেন না, তিনি অফিসে আছেন কিনা। আপনার এমন বারবার ফোন করে খোঁজ নেওয়ার কারণে উনি সহকর্মীদের কাছে বিব্রত হবেন। আর ঘরে তা নিয়ে অশান্তি আরো বাড়বে। তাছাড়া স্বামীর সহকর্মীদের কাছে আপনার সম্মানও নষ্ট হবে।

* স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করুন। আপনাদের যেসব একান্ত সময় ছিল সেগুলো এড়িয়ে যান। যেমন ধরুন, আগে অফিস থেকে ফেরার পর দু কাপ কফি তৈরি করে আপনারা সারাদিন নিজেরা যা যা করেন তার গল্প করতেন। এখন তা না করে শুধু স্বামীর কফিটা বানিয়ে তাকে দেবেন। তারপর আপনি নিজের মতো করে আপনার সময় কাটাতে থাকুন।

* অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও পুরুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চায় না নিজের স্ত্রীর ওপর অধিকার হারাতে। সেই সময় পুরুষ চায় দুটো সম্পর্কই সমান্তরালভাবে চালিয়ে যেতে। এই অবস্থায় আপনি তাকে না জানিয়ে নিজের কাজে বিভিন্ন জায়গায় যান। দেখবেন প্রথম প্রথম জিজ্ঞেস না করলেও কিছুদিনের মধ্যেই তার অধিকারবোধে ঘা লাগবে।