হোঁচট খেল রাজকুমারীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন


থাইল্যান্ডের রাজকুমারী উবোলরাতানার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন এক দিনের ব্যবধানেই হোঁচট খেল। গতকাল শনিবার থাই রাকসা চার্ট পার্টি জানিয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রী পদে উবোলরাতানার মনোনয়ন বাতিল করে দিয়েছে। আর এ সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে থাই রাজা ও উবোলরাতানার ভাই মহা ভাজিরালংকর্নের প্রতি আনুগত্যের অংশ হিসেবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আগামী মাসের নির্বাচনে সামরিক জান্তা নেতা প্রায়ুথ চান-ও-চার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেল।

থাই রাকসা চার্ট পার্টি দেশটির নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দলের রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। গত শুক্রবার এ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন পান ৬৭ বছর বয়সী থাই রাজকুমারী উবোলরাতানা। কিন্তু এ মনোনয়নের বিরোধিতা করে একটি বিবৃতি দেন তাঁর ভাই ও থাই রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন। সেখানে বলা হয়, ‘উবোলরাতানা লিখিতভাবে রাজপরিবারের পদবি বিসর্জন দিলেও তিনি এখনো রাজপরিবারের একজন সদস্য। রাজপরিবারের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য যেকোনো উপায়েই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হোক না কেন, তা এ দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

রাজা এ বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই থাই রাকসা চার্ট পার্টি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা রাজ ফরমানের সঙ্গে একমত। থাই রাকসা চার্ট পাটি যেকোনো মূল্যে রাজপরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

দেশটির সাধারণ জনগণ রাজনীতিতে রাজার এ হস্তক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘রাজা দীর্ঘজীবী হোক।’

২০১৪ সালে এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন ইংলাক সিনাওয়াত্রা। এর পর থেকে দেশটিতে সামরিক শাসন চলছে। অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন সামরিক জান্তা নেতা প্রায়ুথ চান-ও-চা। এবারের নির্বাচনে তিনি পালাং প্রাচায়েত পার্টি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। এ দলটি ক্ষমতাসীন সামরিক কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজপরিবারের প্রথাবিরোধী হলেও উবোলরাতানা আগামী ২৪ মার্চের নির্বাচনে জয়ী হলে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিনি নির্বাচন করতে না পারলে গণতন্ত্রের নামে সামরিক শাসন জারি থাকার আশঙ্কাই বেশি। থাইল্যান্ডের থামাসাত ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনুসর্ন উননো বলেন, ‘এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি লাভ হলো সামরিক জান্তা নেতা প্রায়ুথ চান-ও-চার।’

এদিকে গতকাল শনিবার এক টুইটার বার্তায় নিজের অনুসারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন থাই রাজকুমারী। তবে সেখানে তিনি নিজের মনোনয়ন থাকা না-থাকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, কয়েক দশক আগে এক মার্কিনিকে বিয়ে করতে রাজপদবি বিসর্জন দেন উবোলরাতানা। এরপর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ২০০১ সালে দেশে ফেরেন তিনি। সূত্র : এএফপি।