হোয়াটসঅ্যাপে ‘ছেলেধরা’ গুজব, গণপিটুনিতে দুজন নিহত


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ছড়ানো গুজবের রেশ ধরে ছেলেধরা সন্দেহে ভারতের আসামে গণপিটুনির শিকার হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব আসামের একটি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রাপথে ঠিকানা জানার উদ্দেশ্যে গ্রামটিতে থামলে ওই দুই ব্যক্তি সম্মিলিত জনতার আক্রমণের শিকার হন। সারা ভারতে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়ানো গুজবে ছেলেধরা সন্দেহে গত মাসে আরো ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা সামাজিক গণমাধ্যমে এই গুজব ছড়িয়েছে, তা উদ্ধার করা যাচ্ছে না।

বিবিসির হিন্দি সংস্করণের দিলীপ কুমারকে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মুখেশ রাওয়াল জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন কোনো গুজব ছড়ায়, সেটা পুরোপুরি রোধ করতে কিছুটা সময় লাগে। এ রকম কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশ সামাজিক গণমাধ্যম ও অন্যান্য সাইটের ওপর বিশেষ নজরদারি করছে বলেও জানান তিনি। গত সপ্তাহে আসামে গণপিটুনির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক গণমাধ্যমগুলোতে। ভিডিওটিতে এক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, একজন ক্ষিপ্ত জনতার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইছেন। নিহত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের নাম নীলোৎপল দাশ, তিনি পেশায় একজন অডিও ইঞ্জিনিয়ার। অপর ব্যক্তির নাম অভিজিৎ নাথ, তিনি একজন ডিজিটাল আর্টিস্ট।

গণপিটুনির এ ঘটনায় এ যাবৎ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। এদিকে, গত রোববার গণপিটুনিতে এই হত্যার প্রতিবাদে গৌহাটিতে রাজপথ অবরোধ করে ছাত্র এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের সক্রিয় কর্মীরা। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে তারা নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।