৭৫ বছর পর প্রেমিকযুগলের আবেগঘন পুনর্মিলন


তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। ফ্রান্সের এক গ্রামে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একটি রেজিমেন্ট। যুদ্ধের দামামার মধ্যেই গ্রামের অষ্টাদশী এক কিশোরীর প্রেমে পড়েন তরুণ মার্কিন সেনা। চলে মন দেওয়া-নেওয়া। ভালোবাসার বাঁধনে জড়িয়ে যান ফরাসি কিশোরী জিন পিয়ারসন নি গানায়ি ও ২৪ বছর বয়সী মার্কিন সেনা কারা টোরি রবিন্স। দেখতে দেখতেই কেটে যায় দুমাস। কর্তব্যের ডাকে সাড়া দিতে হয় রবিন্সকে। প্রেয়সীকে ছেড়ে তাঁকে যেতে হয় ইস্টার্ন ফ্রন্টে। আর কখনো হয়তো দেখা হবে না দুজনের। রবিন্স যখন বিদায় নিচ্ছিলেন, কেমন লাগছিল জিনের?

‘সকালে রবিন্স যখন ট্রাকে করে চলে যাচ্ছিল, অনেক কেঁদেছি। প্রচণ্ড মন খারাপ লাগছিল। মনে মনে চাইছিলাম, যুদ্ধ শেষে ও আমেরিকা ফিরে না যাক,’ বলছিলেন জিন।

সময়ের পরিক্রমায় যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান রবিন্স। বিয়ে করে সংসারী হন। তবে বিয়ে করলেও প্রেয়সীকে ভোলেননি তিনি। প্রেয়সীর একটি ছবি নিজের কাছে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন। আর ওদিকে ফ্রান্সে জিন ইংরেজি ভাষা শেখা শুরু করেন। মনে আশা তাঁর, কোনো একদিন ফিরবেন রবিন্স। তখন যেন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারেন।

১৯৪৪ থেকে ২০১৯ সাল—মাঝে কেটে গেছে দীর্ঘ ৭৫ বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর নরম্যান্ডি উপকূল জয়ের দিন ‘ডি-ডে’র ৭৫ বছরপূর্তি উদযাপিত হয়েছে কয়েক দিন আগে।

‘ডি-ডে’ উদযাপন উপলক্ষে প্রেয়সীর ছবি বুকে আগলে ধরে ফ্রান্সে এসেছিলেন রবিন্স। জিন এখনো বেঁচে আছেন কি না, জানেন না রবিন্স। তবুও তাঁর মনে আশা, যদি আরেকবার দেখা হয় জিনের সঙ্গে!

ফ্রান্সের কয়েকজন সাংবাদিককে জিনের ছবি দেখিয়ে যুদ্ধের সময়কার সব কথা খুলে বলেন রবিন্স। সাংবাদিকরা খুঁজে বের করেন জিনের হদিস। হ্যাঁ, বেঁচে আছেন জিন! দুজনের দেখা করার ব্যবস্থা করা হয়। আবেগঘন এক আবহ তৈরি হয় দুজনের দেখা হওয়ার দিনটি ঘিরে। অবশেষে দেখা হয় দুজনের।