বিন্দুমাত্র পিছু না হটার ঘোষণা আসাদের!


যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে দুর্বল করতে পারেনি দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মনোবলে। পূর্ব গৌতায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমায় ‘রাসায়নিক হামলা’র জন্য বাশার আল আসাদের বাহিনীকে দায়ী করে সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় শনিবার একযোগে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যেই অন্য দিনের মতোই দামেস্কে নিজের কার্যালয়ে যান আসাদ। টেলিফোনে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

আসাদ বলেছেন, সিরিয়া থেকে সন্ত্রাসবাদ উৎপাটনে যে কাজ চলছে, পশ্চিমাদের এই হামলা তা আরও এগিয়ে নিতে দেশের জনগণকে অদম্য করে তুলবে। সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের দমনে সরকারি বাহিনী যে অভিযান চালাচ্ছে, তা থেকে বিন্দুমাত্র পিছু না হটার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

হামলার শুরুর পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের টুইটার পেইজে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যাতে আসাদকে দামেস্কে তার কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায়। ৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাসাদের মার্বেল পাথরের মেঝে মাড়িয়ে একটি ব্রিফকেস হাতে একাকী চলছেন স্যুট-টাই পরা আসাদ। ভিডিওর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- অদম্য সকাল।

যুক্তরাজ্যের দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট জানায়, পশ্চিমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় দামেস্কে আসাদ সমর্থকরা পতাকা হাতে মিছিল করেছেন। তাদের মিছিল, জাতীয়তাবাদী গান এবং বিজয় চিহ্ন প্রদর্শন সড়কে এক ধরনের উৎসবের আমেজ তৈরি করে।

মাহমুদ ইব্রাহিম নামে মিছিলকারী একজন গণমাধ্যমকে জানাই, “আমরা আমেরিকার মিসাইলে ভয় পাই না। আমরা তার থোড়াই পরোয়া করি না। তারা দেখুক, আমরা রাস্তায় আছি, আমরা ভয়ে গর্তে আশ্রয় নিইনি।”

এদিকে পশ্চিমা বলছে, রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোতে তারা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পশ্চিমাদের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে সিরিয়া সরকার দাবি করেছে, ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, তার ৭০টিই তার আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে।

সিরিয়ায় হামলার বিরোধিতা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, “এটা তো কোনো সুফল বয়ে আনবেই না, বরং আরও ধ্বংসযজ্ঞ হবে।” যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি জায়েজ করতে এই হামলা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সিরিয়ায় হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার তাগিদ দিয়েছেন।