বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

দশম অধ্যায় : জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

হতদরিদ্র আলী আকবর রেলস্টেশনে ঘুরে ঘুরে গান গায়। তার গনের গলা খুব ভালো। এলাকার লোকজন তার প্রতিভায় মুগ্ধ। কিন্তু তাতে মনসুর আলীর কোনো উপকার হয় না। একসময় গ্রামের কয়েকজন তরুণ তার গানের সিডি তৈরি করে বাজারজাত করে। এরপর থেকে তার আয় বাড়তে থাকে ও সংসারে সচ্ছলতা আসে।

ক. শ্রমিকের আয়কে কী বলে?

খ. মুক্তবাজার অর্থনীতি বলতে কী বোঝো?

গ. আকবর আলীর ‘গায়কি প্রতিভা’ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদ কি না ব্যাখ্যা করো।

ঘ. আকবর আলীর গানের সিডি কিভাবে তার অর্থব্যবস্থার পরিবর্তন করে, তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :

ক. শ্রমিকের আয়কে মজুরি বলে।

খ. ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিকেই মুক্তবাজার অর্থনীতি বলে। এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দ্রব্যের উত্পাদন, বণ্টন, ভোগ—সবই বাজারে দ্রব্যের চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সম্পদের ব্যক্তি মালিকানা এবং উত্পাদন ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা।

গ. আকবর আলীর ‘গায়কি প্রতিভা’ উত্পত্তির দিক থেকে মানবিক সম্পদ বলা হয়। কিন্তু এর হস্তান্তরযোগ্যতা ও বাহ্যিকতা নেই বলে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা সম্পদ নয়। সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর হস্তান্তরযোগ্যতা। যেখানে হস্তান্তরযোগ্যতা বলতে বোঝায় এর হাত বদল হওয়া। অর্থাৎ যে দ্রব্যের মালিকানা বদল বা পরিবর্তন করা যায় তাই হলো সম্পদ। গায়কি প্রতিভাকে অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ বলা যাবে না। কারণ প্রতিভাকে হস্তান্তর করা বা মালিকানা বদল করা সম্ভব না।

আবার যেসব দ্রব্য মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণ—তা অর্থনীতির ভাষায় সম্পদ নয়। যেমন—গায়কি প্রতিভা, কোনো ব্যক্তির কম্পিটারের ওপর বিশেষ অভিজ্ঞতা কিংবা কারো চারিত্রিক গুণাবলিকে সম্পদ বলা যাবে না।

তাই আকবর আলীর ‘গায়কি প্রতিভা’ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আকবর আলীর গায়কি প্রতিভা গানের সিডি আকারে প্রকাশ হওয়ায় তা সম্পদে পরিণত হয় এবং সে অর্থ উপার্জন করে জীবনে সচ্ছলতা আনতে পেরেছে।

মানবিক সম্পদকে যদি অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা যায়, তাহলে তা মানবজীবনে অর্থ উপার্জনের পথ তৈরি করে। যা তার প্রয়োজনীয় অভাব পূরণে ব্যবহার করে জীবনযাত্রার মান বাড়াতে পারে।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, দরিদ্র আকবর আলী রেলস্টেশনে ঘুরে ঘুরে গান গায়। তার গান শুনে লোকজন মুগ্ধ হলেও তার কোনো উপকার হতো না। পরে কয়েকজন তরুণ আকবর আলীর গানের সিডি তৈরি করে বাজারজাত করে দেয়। এতে আকবর আলীর আয় বেড়ে যায় এবং তার সংসারে সচ্ছলতা আসে।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে আকবর আলীর গানের সিডি অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে তার অবস্থার পরিবর্তন করেছে।

Facebook

Get the Facebook Likebox Slider Pro for WordPress