রাশিয়া-তুরস্কের বিপুল অঙ্কের সামরিক চুক্তি


রাশিয়ার কাছ থেকে ২৫০ কোটি ডলারের বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনছে তুরস্ক।

রাশিয়ার এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে তুরস্কের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, আঙ্কারা ইতিমধ্যে চুক্তির অর্থও পরিশোধ করেছে।

সামরিক বাহিনীর বিচারে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সদস্য তুরস্ক। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে তুরস্ক। রাশিয়ার সঙ্গে সুদৃড় সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে আঙ্কারা।

তুরস্কের কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত সিরীয় কুর্দি বাহিনী ওয়াইপিজে-কে সমর্থন না দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় এরদোয়ান প্রশাসন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথা শোনেনি।

রাশিয়া জানিয়েছে, এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার। এটি একই সঙ্গে ৮০টি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করতে পারে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ার লাটাকিয়ায় নিজেদের বিমানঘাঁটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করে রাশিয়া। সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণের সময় একটি এসইউ-২৪ রুশ যুদ্ধবিমান তুরস্ক ভূপাতিত করলে সিরিয়ায় এস-৪০০ মোতায়েন করে রাশিয়া।

রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করায় তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নেন এরদোয়ান।

নতুন চুক্তির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক উপদেষ্টা ভ্লাদিমির কোজহিন বলেছেন, তুরস্কের কাছে এস-৪০০ বিক্রির চুক্তি আমাদের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা যেকেউ সহজেই বুঝতে পারেন। তারা তুরস্কের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

হুরিয়াত ডেইলি-তে এরদোয়ানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কিছু পশ্চিমা বন্ধুদেশ (নাম উল্লেখ না করে) সামরিক ড্রোন দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ চাইছে। কিন্তু গত সপ্তাহে তুরস্কের ড্রোন ব্যবহার করে ওয়াইপিজের ৯০ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে আমাদের বাহিনী। এ ধরনের ড্রোন তুরস্কেই তৈরি হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা ড্রোনগুলো খুবই ব্যয়বহুল।

Facebook

Get the Facebook Likebox Slider Pro for WordPress