পারস্পরিক দোষারোপ করোনা সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে: ওবায়দুল কাদের

দোষারোপের রাজনীতি থেকে এই মুহূর্তে বের হয়ে আসতে হবে, পারস্পরিক দোষারোপ করোনা সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন।

করোনা নিয়ে এখন কারও রাজনীতি করা সমীচীন নয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের এ সময় আরও বলেন, ‘বিএনপি আসলে কিছু কিছু উদ্ভট অভিযোগ করে। তার জবাব আওয়ামী লীগকে দিতে হয়। বিএনপি যদি আজ এই মহামারির সময়ে প্ল্যানগেমের রাজনীতি থেকে নিজেদের বিরত রাখে, সেটাই জনগণের জন্য শুভ।’

ওবায়দুল কাদের মনে করেন, খালেদা জিয়ার করোনায় আক্রান্ত হওয়া নিয়ে বিএনপি আবার কখন কোন অপরাজনীতি শুরু করে, এ নিয়ে জনগণ শঙ্কায় আছে।

বিএনপি তাদের ব্যর্থ রাজনীতি ঢাকতে জনগণ ও পুলিশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নয়, বিএনপি জনগণকে তাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে। জনগণ তাদের ভোট দেয় না বলে সহিংসতা করে এখন জনগণের জানমালের ক্ষতি করছে তারা।’

শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের জন্যেই শেখ হাসিনার প্রতিটি কর্মসূচি।’

গত ২৬ মার্চ সহিংসতার ঘটনা পরিকল্পিত ছিল—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সেদিনের এবং পরবর্তী ঘটনাবলী দেশকে অস্থিতিশীল করার এক গভীর চক্রান্ত ছিল, এবং তা ছিল পরিকল্পিত। এ পরিকল্পনায় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে উসকানি দিয়েছে বিএনপি এবং এ তাণ্ডবলীলা বিএনপি ও তার দোসরদের পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপি হঠাৎ গত মঙ্গলবার উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর হাস্যকর অপচেষ্টা করেছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের রাজনীতিতে কে কাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে, তা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। শাক দিয়ে মাছ ঢেকে কোনো লাভ নেই। কারণ, জনগণের কাছে সবকিছুই আজ স্পষ্ট।’

বিএনপির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি সম্পর্কে এই দেশের জনগণ ভালো করেই জানে—এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা (বিএনপি) বলেছে, কেউ লকডাউন মানছে না, কার্যকর হচ্ছে না। অথচ এখন সরকার সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়ার পর বলছে, সরকার লকডাউনের নামে শাটডাউন দিয়ে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির দ্বিচারিতা তাদের রাজনীতির মাঠ থেকে জনগণকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।