ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টকে চীনের বশ্যতা পরিহারের আহ্বান

চীনা উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপের কাছে টহল দিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে ফিলিপাইনের আইনপ্রণেতা এবং পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা সে দেশের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের অধীনে থাকার নীতি তিনি যেন পরিহার করেন।

চীনা জাহাজগুলো দক্ষিণ চীন সাগরে ম্যানিলার এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) থেকে সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর সময় কার্যত চুপ থাকার অভিযোগ রুয়েছে রদ্রিগো দুতার্তের বিরুদ্ধে।

ফিলিপাইনের শীর্ষ কূটনীতিকসহ সে দেশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং প্রতিরক্ষা প্রধান সরাসরি প্রকাশ্যে চীনের বিরোধিতা করেছেন। তবে সেই সময় মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কথা বলার সময়ও দক্ষিণ চীন সাগর একবারও মুখে আনেননি দুতার্তে। তার মুখপাত্র এর আগে শুধু জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ওই খবর দিয়েছিল।

গত বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, বারবার আপত্তির পর চীনের কিছু জাহাজ চলে গেছে। তবে আরো ২৪০টি জাহাজ সেখানে রয়েছে।

ফিলিপাইনের বিরোধীদলীয় সিনেটর লেইলা দে লিমা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দুতার্তে এবং সামরিক বাহিনী চীনকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়, তবে ফিলিপাইন চীনের ‘উপগ্রহগুলির’ একটিতে পরিণত হতে পারে।

তিনি এও মনে করেন, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে ম্যানিলার অবস্থানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রকাশের পরেও দুতার্তে চীনের প্রতি যে বশ্যতা স্বীকার করছেন, তা ফিলিপাইন ভূখণ্ডের অখণ্ডতার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

২০১৬ সালে দুতার্তে ক্ষমতায় আসার পর চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং বহুক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেনা সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।