ভ্রমণক্ষেত্রে ভারতকে লাল তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাজ্য

ভারতে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিকে ভ্রমণবিষয়ক ‘লাল তালিকাভুক্ত’ করেছে যুক্তরাজ্য। বিবিসির খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।

দশ দিনের মধ্যে ভারত ভ্রমণ করেছেন এমন কাউকে আগামী শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) থেকে যুক্তরাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে ব্রিটিশ ও আইরিশ পাসপোর্টধারী বা যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকারসম্পন্ন কেউ দেশে আসতে চাইলে ব্রিটিশ সরকার অনুমোদিত হোটেলে ১০ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন পালন করতে হবে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক এসব তথ্য জানান।

এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যজুড়ে ১০৩ জন করোনা রোগীর শরীরে ভারতের নতুন স্ট্রেইন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গতকাল সোমবার হাউস অব কমন্সের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যাট হ্যানকক বলেন, ‘বি.১.৬১৭ হিসেবে পরিচিত নতুন ভারতীয় স্ট্রেইন শনাক্তের সিংহভাগ ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত।’

ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হ্যানকুক জানান, শনাক্ত হওয়া এই নতুন ধরনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ব্যাপক সংক্রমণ হার কিংবা টিকার বিপরীতে কার্যকারিতা নিয়ে এর ‘উদ্বেগজনক কোনো বৈশিষ্ট্য’ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি এক নথিতে বলা হয়, গত ২৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো তিন হাজার ৩৪৫ জনের পিসিআর পরীক্ষায় ১৬১ জনের অর্থাৎ ৪ দশমিক ৮ শতাংশের করোনা ধরা পড়ে।

চলতি এপ্রিলের শুরুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে লাল তালিকাভুক্ত করার সময় সাত দিন আগে জানানো হলেও ভারতের বেলায় মাত্র তিনদিনের নোটিশে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হলো।

এ সপ্তাহের শুরুতে ভারত থেকে হংকংয়ে যাওয়া একটি ফ্লাইটে ৪৭ জনের করোনা ধরা পড়ে। অথচ ভারত থেকে সরাসরি ১৬টি ফ্লাইট নিয়মিত যুক্তরাজ্যে যাতায়াত করে। এ ছাড়াও ভায়া হয়ে বহু ফ্লাইট ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে যায়। ফলে আগামী শুক্রবারের আগ পর্যন্ত এই সময়টা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

এদিকে, ভারতে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ চলছে। সপ্তাহ খানেক ধরে দৈনিক দুই লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গতকাল দেওয়া তথ্য মতে, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে একদিনে দুই লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৬১৯ জনের।