বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল দুই বন্ধুর প্রাণ

বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল দুই বন্ধুর প্রাণ

বগুড়ায় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু নিহত ও একজন আহত হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কের ফুলবাড়ি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন-বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের হাফিজার রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান (২০) ও শেরপুর পৌর শহরের গোসাইপাড়া এলাকার মৃত বাবলু ব্যাপারির ছেলে শাহাবুল হাসান (২০)। আহত উৎসব বিশ্বাস (২০) গোসাইপাড়া এলাকার উজ্জ্বল বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহাবুল হাসান মোটরসাইকেলে তার বন্ধু মেহেদী হাসান ও উৎসব বিশ্বাসকে নিয়ে উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে গাড়ীদহ ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কের ফুলবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারান। তখন মোটরসাইকেল সড়কের পাশে একটি দোকানের শাটারে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ে। এতে তিন বন্ধু আহত হন। 

স্থানীয়রা গুরুতর আহত শাহাবুল হাসান ও মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

বগুড়ার সিলিমপুর মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লাল মিয়া জানান, শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহাবুল ও মেহেদীর মৃত্যু হয়। উৎসব বিশ্বাস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত উৎসব বিশ্বাস জানান, শাহাবুল মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। তারা বন্ধু মেহেদীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা তিনজনই সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন।

সোমবার সকালে শেরপুর থানার এসআই আমিরুল শিকদার জানান, আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুই বন্ধুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।আহত এক বন্ধু প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ ব্যাপারে থানায় সড়ক পরিবহণ আইনে মামলা হয়েছে। 


স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে শাহাবুল হাসান তার ফেসবুকে পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে লেখা ছিল- সাদা কাপড়, মাটির ঘর, বাসের ছাউনি।দুর্ঘটনার পর সে স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

অনেকে মন্তব্য করেন, এ স্ট্যাটাস যেন তার মৃত্যুর পূর্বাভাস ছিল। তবে নিকটজনরা বলছেন, এটা ছিল শাহাবুলের স্বাভাবিক রসিকতার ভঙ্গি যা এখন তাদের জন্য আরও বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি।

চট্টগ্রামে কম্বলের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট পরবর্তী

চট্টগ্রামে কম্বলের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট

কমেন্ট