খুলনায় বাস টার্মিনালে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাস টার্মিনালের পাশে ময়ূরী সড়কের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারগুলো ভেঙে দেয়। এ সময় অন্তত ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ অবৈধ স্থাপনা নিয়ে দীর্ঘ নগর সংস্থা ও কেডিএর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।
অবশ্য দখলদারদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি মালিকের কাছ থেকে ইজারা কিংবা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেগুলো বেআইনিভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৈরি করা প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০ ফুট চওড়া সড়কটি খুলনায় প্রবেশের অব্যাহত প্রধান সড়ক। কিন্তু এটির অধিকাংশ স্থানে অবৈধ দখলদার থাকায় সিটি করপোরেশন সড়কটি বুঝে নিতে অস্বীকার করে।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প থমকে যায়। তাই জনস্বার্থে এই উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০টিরও বেশি স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। আরো শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চলমান থাকবে।
দোকান ও পরিবহন কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা অনেকেই সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একটি সঠিক নীতিমালা দেওয়ার জন্য কেডিএকে জানালে সেটি তারা না শুনে হঠাৎ করেই তাদের সম্পদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কেডিএ বলেছিল দোকানগুলো থাকবে কিন্তু কাউন্টারগুলো অপসারণ করতে হবে। সে জন্য তিন মাসের একটি সময় চেয়ে নেওয়া হয়েছে। কাউন্টার মালিকরাও সেইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় এসে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিল। এতে কম্পিউটার, এসি, চেয়ার টেবিলসহ সব আসবারপত্র নষ্ট হয়েছে। কোনো কিছু বের করারও সুযোগ দেয়নি। ফলে তারা আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তবে কেডিএর পরিদর্শক (স্টেট) মিরাজ হোসেন বলেন, বারবার তাদের জায়গা খালি করার নির্দেশ দিলেও তারা কর্ণপাত করেনি। ময়ূরী সড়কটি ৬০ ফুট চাওড়া করা হবে। এজন্য বাজেটও অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু জমি খালি না করার জন্য সড়ক উন্নয়নের কাজ করা যাচ্ছিল না। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কমেন্ট