চাঁদা তুলে বেহাল সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী
সুনামগঞ্জ শহরে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়া একটি সরকারি সড়ক অবশেষে নিজ উদ্যোগে মেরামত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তদবির করেও সাড়া না পেয়ে চাঁদা তুলে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলযোগ্য করেছেন তারা।
শহরের মল্লিকপুর এলাকায় বিএডিসি, ত্রাণ অফিস, পাসপোর্ট অফিস ও সমাজসেবা কার্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি কয়েক বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ ইটসলিংয়ের এই সড়কটি জেলা পরিষদের সামনের অংশ থেকেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ভারী ট্রাকে করে বিএডিসির সার ও বীজ পরিবহন করা হয়। এ ছাড়া আশপাশে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, জেলা ত্রাণ গুদাম-কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় ও সমাজসেবা ভবন নির্মাণের পর যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।
সমাজসেবা ভবনে জেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তার কার্যালয় থাকায় প্রতিদিন সেখানে অটিস্টিক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা থেরাপি নিতে আসেন। ভাঙাচোরা সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে তাঁদের দুর্ভোগ আরো বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর মধ্যে ভারী যান চলাচলের কারণে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ইটের খোয়া, বালু ও কংক্রিট ফেলে সড়কটি সাময়িকভাবে সংস্কার করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমদ বলেন, প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করে আমরা সড়কটি সাময়িকভাবে সংস্কার করেছি। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
জেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা ডা. তানজিল আহমদ বলেন, আমাদের কার্যালয়ে প্রতিদিন অসুস্থ বয়স্ক মানুষ ও প্রতিবন্ধী শিশুরা আসে। ভাঙা সড়কের কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়ে। বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তুলে ধরা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ বিএডিসি (সার) উপসহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সড়কটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তরের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বেহাল অবস্থার কারণে চলাচল কঠিন হওয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগে সাময়িক সংস্কার করা হয়েছে, এতে তারাও কিছু সহযোগিতা করেছেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়ী সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কমেন্ট