মুক্তিযোদ্ধা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ
ঢামেকের ফুটপাতে ডিএসসিসির সৌন্দর্য বর্ধন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এলাকার আশপাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম নান্দনিক ওই ফুটপাত উদ্বোধন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের সড়কের বিপরীত পাশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসংলগ্ন দেয়ালজুড়ে প্রায় ১৩৫০ ফুট এলাকায় বিভিন্ন রঙের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। এসব গ্রাফিতিতে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের নান্দনিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এছাড়া পুরো ফুটপাত জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ২৫০টি স্কয়ার আকৃতির ফুলের টব, ৩০০টি গোলাকার টব, ৬৪৯টি গাছ, ৫০টি বসার বেঞ্চ এবং ২০টি আরসিসি ডাস্টবিন। ফলে আগে যেখানে দখল ও অব্যবস্থাপনার চিত্র ছিল, সেই ফুটপাত এখন পথচারীদের জন্য আকর্ষণীয়, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক চলাচলের স্থানে পরিণত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি লাগবে। ফুটপাতে যে ব্যবসা করবে তাকেও আইন এবং শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। এজন্য তাদের আমরা লাইসেন্স দেব। পুলিশ অলরেডি জরিপ করছে যে, কারা ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারবে আর কারা পারবে না। আমরা তাদের চিহ্নিত করতে চাই এবং এ ব্যাপারে আমরা একটা শৃঙ্খলা আনতে চাই। হকার কোথায় বসবে, এটার জন্য আমরা একটা পরিষ্কার গাইডলাইন দেব।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, আমরা হকারদের উচ্ছেদের প্রসঙ্গে আসতে চাই না। তাদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করবো।
তিনি বলেন, আমরা এই ঢাকা শহরে সান্ধ্যকালীন মার্কেট করবো। আমরা হলি ঈদে মার্কেট করবো, যেটা শুক্র এবং শনিবার খোলা থাকবে।
ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে এগুলোর প্রভাবের সময় আসতেছে। এখন থেকেই আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এক্ষেত্রে অবশ্যই জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি রাস্তাঘাটে ও বাড়ির আঙিনায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।
আব্দুস সালাম বলেন, আজকে ট্রাফিক সিস্টেম ঠিক করতে হলে রিকশা এবং ট্রাকসহ যানবাহনকে একটি সিস্টেমের মধ্যে আনতে হবে। ঢাকা শহরে কতগুলো রিকশা চলবে সেটি নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য রিকশার নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি আমরা চিন্তা করছি। কারো পেটে যাতে ‘লাথি’ না পড়ে, সেটিও আমরা দেখবো এবং সবকিছু একটি শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসবো।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ আমরা করে দিয়ে গেলাম, এটি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজ থেকেই সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে—রাস্তাঘাটে কোথাও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হবে না এবং নির্ধারিত স্থানেই তা ফেলা হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জহিরুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আসাদুজ্জামান এবং ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কমেন্ট