আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু আছে : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
ঝড়ে উপড়ে গেছে মধুসূদন দত্তের ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই বটগাছ
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের চতুর্দশপদী ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই বটগাছটি ঝড়ে উপড়ে গেছে। বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে মধুপল্লীর মূল্যবান গাছপালাও। হঠাৎ বৈশাখীর ছোবলে সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদ পারের মালোপাড়ায় কবির শৈশবকালের স্মৃতিবিজড়িত বটগাছটি উপড়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের মন ভারী হয়ে উঠেছে।
কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মনা মানুষের দাবি, উপড়ে পড়া ওই বটগাছটির অংশ বিশেষও রক্ষা করতে পারলে পর্যটকরা এসে দেখতে পারবেন।
মধুপল্লী কর্তৃপক্ষ উপড়ে পড়া বটগাছটি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে সাগরদাঁড়ি এলাকার পাঁচটি গ্রামের ওপর দিয়ে বৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। ঝড়ে এলাকার শত শত গাছপালা ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। উপড়ে যায় মধু কবির স্মৃতিবিজড়িত চতুর্দশপদী কবিতায় উল্লেখ করা ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই বটগাছটি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বটগাছটির বয়স আনুমানিক ২৫০ বছরেরও বেশি।
সরেজমিনে রবিবার গিয়ে দেখা যায়, সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর ভেতর অনেক গাছ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। উপড়ে গেছে মালোপাড়ার বয়োবৃদ্ধ বটগাছটিও। স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিমনা মানুষ ওই বটগাছটির অংশ বিশেষও রক্ষা করার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
সাগরদাঁড়ির সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি সুভাষ দেবনাথ (৬০) বলেন, বটগাছটির বয়স ২৫০ বছরেরও বেশি। গাছটি ঝড়ে উপড়ে পড়ায় এলাকার মানুষের মন খারাপ হয়েছে।
সাগরদাঁড়ির আলোকচিত্র শিল্পী মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু জানান, মালোপাড়ায় অবস্থিত ওই বটগাছটির একটি ঝুরি রক্ষা করতে পারলেও গাছটির চিহ্ন ধরে রাখা সম্ভব। তার দাবি, বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিলে গাছের অংশ বিশেষও রক্ষা করা সম্ভব হবে। কারণ মাটির মধ্যে ওই গাছটির কয়েকটি ঝুরি আটকে রয়েছে।
মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ জানান, মহাকবির ‘বটবৃক্ষ’ কবিতা চতুর্দশপদী কবিতা। কবির শৈশবে স্মৃতিময় এ বটবৃক্ষ এলাকার মানুষের মন জুড়ে রয়েছে। বটবৃক্ষটির কিছু অংশ রক্ষা করা গেলেও পর্যটকরা এসে বটবৃক্ষ কবিতার সেই গাছের কিছু অংশ দেখতে পেলেও খুশি হবেন।
সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর কাষ্টডিয়ান হাসানুজ্জামান বলেন, কবির স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ি মালোপাড়ার বটবৃক্ষটি ঝড়ে উপড়ে পড়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মধুপল্লীর ভেতর অনেক গাছপালা ভেঙে ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা সমীরণ বিশ্বাস বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঝড়ে উপড়ে পড়া ওই বটগাছটি সম্পর্কে জানানো হবে।
কমেন্ট