পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত লিমনের দেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন অবশেষে ফিরে এলেন নিথর দেহ হয়ে। তার শেষ বিদায়ে অশ্রু আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এর আগে বাদ মাগরিব লালডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা।
সেখানে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হয়ে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান লিমনকে।
সকালে তার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিজ বাড়িতে আনা হয় মরদেহ।
এ সময়ে লিমনের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
নিহতের বাবা জহুরুল হক বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে কখনো কোনো দিন কষ্ট দিইনি। আমার একটি সবচেয়ে বড় দুঃখ। কেন আমার ছেলেকে এত কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হলো।
আমি তাকে কখনো একটি চড়-থাপ্পড়ও দিইনি, শুধু মুখে শাসন করেছি। ছেলে সব সময় আমাকে বলত, আব্বু, তুমি নিশ্চিন্তে থাকো। তোমার কোনো চিন্তা করতে হবে না। তোমার চাকরি করার দরকার নেই, প্রয়োজনে ব্যবসা-বাণিজ্য করো। আমি বলতাম, ব্যবসা করতে তো টাকা লাগে, আমার তো সে টাকা নেই।
’
এ সময়ে তিনি আরো বলেন, ‘দেশে বা বিদেশে যেসব ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে। এমন ঘটনা যেন আর কারো সঙ্গে না ঘটে। বৃষ্টি মেয়েটিও আমি নিজের মেয়ের মতোই মনে করতাম। আমার ছেলে ও বৃষ্টিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’
নিহতের চাচা জিয়াউল হক বলেন, ‘আমার ভাতিজা খুব মেধাবী ছিল। তার এমন নির্মম মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর বিচার চাই।’
নিহতের চাচা সুজন মিয়া বলেন, ‘লিমন ও তাঁর বান্ধবী বৃষ্টি তারা আগে থেকেই পূর্বপরিচিত ছিল। লিমনের নানি বাড়ি ও বৃষ্টির বাড়ি পাশাপাশি এলাকায় মাদারীপুরের। দুজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার চাই।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিমনের বাবা জহুরুল হক ১৯৯৪ সালে পরিবারসহ ঢাকায় চলে যান এবং একটি টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করেন। তবে তারা নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। লিমন ২০১৪ সালে গাজীপুরের মাওনা মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করতে যান। সেখানে তিনি ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় জামিল আহমেদ লিমন রুমমেটকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ।
কমেন্ট