সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। রবিবার (৭ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।
ডামুড্যা থানা ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ডামুড্যা উপজেলা সদরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রধান শিক্ষক হিসেবে সুজিত কর্মকার ২০১৩ সালে সেখানে নিয়োগ পান। দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন।
ওই বিরোধের জেরে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বরের পর আর তিনি বিদ্যালয়ে যাননি। বিভিন্নভাবে ছুটি কাটিয়ে যাচ্ছিলেন।
রবিবার সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে নামেন।
নামার পর বেশকয়েক জন অভিভাবক ও স্থানীয়রা তাকে মারধর করতে থাকেন। আবার কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন। তখন আরো কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশার ভেতরে মারধর করছেন। ওই শিক্ষককে মারধরের এমন দৃশ্য স্থানীয় কয়েকজন মানুষ ভিডিও ধারণ করে রাখেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, সুজিত কর্মকার নামের এক ব্যক্তিকে আমরা ভর্তি করেছি।
তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে। মুখোমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বলেন, আমি বিদ্যালয়ের কাজ থাকার কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যাই। কাজ শেষ করে বিদ্যালয় ঢোকার পথে আমার উপর স্থানীয়রা হামলা করে। কেন বা কি কারণে করে আমি জানিনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার বলেছেন এই বিষয়ে মামলা হবে। তবে আমাকে আগে চিকিৎসা নিতে বলেছেন।
ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক তাকে বাধা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি এমন শুনেছি। আমার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কোনো বিরোধ নেই। কেন তিনি এসবের জন্য আমাকে দায়ী করছেন তা বুঝতে পারছি না।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, সকালে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। আমি ওসি কে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট