আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে: প্রধানমন্ত্রী
খানাখন্দে ভরা সড়কে ধানের চারা লাগিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
গাজীপুরের শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় খানাখন্দে ভরা রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
এর প্রতিবাদে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সড়কের গর্তে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকার কাজটি পায় শাম্মি এন্টারপ্রাইজ। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট, পাথর, রডসহ নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় যান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, রিকশা ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
বিশেষ করে নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। তবে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টি হলে সড়ক আর গর্ত আলাদা করা যায় না। পথচারীরা গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। এতে ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে প্রতিবাদ হিসেবে সড়কের গর্তে ধানের চারা লাগানো হয়েছে।’
শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে।
কমেন্ট