নিয়ামতপুরে ৮ হাজার আমগাছ কাটার অভিযোগ

নিয়ামতপুরে ৮ হাজার আমগাছ কাটার অভিযোগ

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ৪৬ বিঘা জমির প্রায় আট হাজার আমগাছের ডাল কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানটির ইজারাদার আম চাষি ইমারত মোল্লা।


এ ঘটনায় তিনি নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ১০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গাংগার গ্রামের একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশ্যে আমবাগানে ঢুকে গাছের ডাল কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর গ্রামের ইমারত মোল্লা ২০২৩ সালের জুনে নিয়ামতপুর উপজেলার গাংগার গ্রামের বাবর আলী মেম্বর ও পত্নীতলা উপজেলার কাঁটাবাড়ী গ্রামের খোরশেদ আলমের কাছ থেকে ৯ বছরের জন্য ৪৬ বিঘা জমির আমবাগান ইজারা নেন।


ইমারত মোল্লার অভিযোগ, গত ১০ আগস্ট তিনি ছয়জন শ্রমিক নিয়ে বাগানে আমগাছের পরিচর্যা করছিলেন। এ সময় বাবর আলী মেম্বর ও খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন ব্যক্তি বাগানে প্রবেশ করে শ্রমিকদের বের করে দেন। পরে তারা প্রায় আট হাজার আমগাছের ডাল কেটে ফেলেন। এ সময় তাকে বাগানে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 
ইমারত মোল্লা বলেন, ‘আমরা ৯ বছরের জন্য বাগানটি ইজারা নিয়েছি। গত দুই বছরের টাকা পরিশোধ করেছি। এ বছর বাগানে লোকসান হওয়ায় পুরো টাকা দিতে পারিনি। ১৪ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিয়েছি। বাকি চার লাখ টাকার জন্য তারা প্রায় আট হাজার আমগাছের ডাল কেটে ফেলেছে।


এতে আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাবর আলী মেম্বর। তিনি বলেন, ‘আমরা ইমারত মোল্লাকে ৯ বছরের জন্য বাগানটি ইজারা দিয়েছিলাম। প্রতিবছর ১৮ লাখ ৩৭ হাজার ২৮৫ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত টাকা পরিশোধ করেননি। স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি নিয়ে সালিস হলে পূর্বের বকেয়া ও চলতি বছরের টাকা মিলিয়ে ২১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা হয়। কিন্তু তিনি ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। বাকি টাকা না দেওয়ায় আমরা বাগান নিজেদের দখলে নিয়েছি।’

গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো গাছ কাটা হয়নি। আমগাছ পরিচর্যার জন্য ডাল ছাঁটাই করা হয়েছে এবং বাগানে সার দেওয়া হচ্ছে।’

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তরুণীকে বাঁচালেন পুলিশ সদস্য পরবর্তী

নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তরুণীকে বাঁচালেন পুলিশ সদস্য

কমেন্ট