স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীর পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। পানি কমতে শুরু করেছে পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, পাগলাসহ সব নদ-নদীর।
তবে এখনও পানিবন্দি নদীতীরের কয়েক হাজার পরিবার। তাঁদের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন অনেকেই। ঝুঁকি বেড়েছে বন্যা পরবর্তী রোগ-বালাইয়ের।
এখনও নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে পানি উঠে যাওয়া হচ্ছে নিম্নাঞ্চলে।
এদিকে জেলায় অব্যাহত বৃষ্টিপাত পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এ ছাড়া নদীর পানি একবার নিচু এলাকায় প্রবেশ করলে নেমে যেতে সময় লাগে।
এ অবস্থায় সরকারি ত্রাণ হিসেবে প্রথম দফার চাল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে সেই সঙ্গে শুকনো খাবার দেওয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে সদরের নারায়নপুর ও আলাতুলি, শিবগঞ্জের পাঁকা, দূর্লভপুর, উজিরপুর ও মনাকষা।
এদিকে পদ্মা তীরবর্তী সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও পানিবন্দি থাকায় সেগুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাতে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন, দুই উপজেলার ১১টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পানিবন্দি থাকায় সেগুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৩টি ও শিবগঞ্জ উপজেলার ৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুই উপজেলায় ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি ও শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৮টি বিদ্যালয় রয়েছে। কবে এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করা যাবে তা পানি নেমে পরিবেশ উপযোগী হবার উপর নির্ভর করছে বলেও জানান ওই দুই কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক আবু ছলেহ মো. মুসা জঙ্গী সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বানভাসিদের মাঝে শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্যালাইন বিতরণ করেন। এসময় তিনি দুর্গত জনগণের পাশে থাকার কথা জানান।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পদ্মায় পানি বিপৎসীমার ৫০ সেমি নীচে ২১.৫৫ মিটারে সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা বিপৎসীমার ২৬ সেমি নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবার পর ২৪ ঘণ্টা স্থির থেকে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কমতে শুরু করে।
অপরদিকে, মহানন্দা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১৯.৪১ মিটারে ও পুনর্ভবা ১৯.৫১ মিটারে বিপৎসীমার নীচে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ৪ দিন পদ্মার পানি হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছে। আপাতত নতুন করে পানি বৃদ্ধির শঙ্কা নেই।
শিবগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিজানুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ২৬ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, পানি নামার সময় দুর্ভোগ বাড়ে। এখনও বহু পরিবার পানিবন্দি ও কিছু বাড়িতে পানি উঠে আছে। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম এখনও অনেক পরিবার পানিবন্দি থাকাসহ কিছু বাড়িঘরে পানি উঠে আছে জানিয়ে বলেন, তবে কিছু বাড়িঘর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
সদরের পিআইও শাহীনুর রহমান বলেন, নারায়নপুর ও আলাতুলী ইউনিয়নে প্রায় ২ সহস্রাধিক পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। পানি নামার সময় গবাদিপশু ও মানুষজনের রোগবালাই বাড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, এমন সমস্যা প্রকট হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুকনো খাবার দেওয়ার জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন মানুষ ও গবাদিপশুর রোগবালাইয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান জেলাব্যাপী এখন ১ হাজার ৬০০ বিঘা জমির ফসল নদীর পানি বৃদ্ধিতে আক্রান্ত রয়েছে বলে জানান।
কমেন্ট