পে স্কেলসহ ৩ বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি গঠন
নেত্রকোনায় সরকারি গাছ কাটায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ৩১টি সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রাস্তাটির নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের প্রতিনিধি ও স্থানীয় মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূইয়া সুমনের (৩৫) নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে গত ২৩ নভেম্বর কেন্দুয়ায় থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ কোটি বিশ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের দিগলী-আলমপুর কাঁচা রাস্তাটির সোয়া ৪ কিলোমিটারের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুত রাস্তা নির্মাণের অজুহাতে গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের কোনোরকম অনুমতি ছাড়াই রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ৩১টি গাছ কেটে ফেলেন ঠিকাদারের প্রতিনিধি রেজাউল হাসান ভূইয়া সুমন। পরে ১৮ নভেম্বর রাতে কেটে ফেলা গাছগুলো অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা আটক করলে প্রশাসন তা জব্দ করে।
ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। এরইমধ্যে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মাসকা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল বাদী হয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধির নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে অনুমতি ছাড়া ৩১টি গাছ কাটার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম ইসলাম চৌধুরী।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পরও থামছে না অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনা। এরইমধ্যে গত ২৪ নভেম্বরও একই রাস্তা থেকে আরও তিনটি গাছ কাটা হয়েছে এবং এসব গাছও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তায় একের পর এক অবৈধভাবে গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা জানেন না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সরকার।
মাসকা ইউনিয়নের দ্বিপাড়া গ্রামের খোকন মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সরকার মাসকা ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্বেও রয়েছেন। প্রকৌশলীর সঙ্গে ঠিকাদারের প্রতিনিধি সুমনের দহরম-মহরম সম্পর্ক। দুইদিন ধরে গাছগুলো কাটা হল—অথচ প্রকৌশলী বলছেন তিনি কিছুই জানেন না। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, গাছ কাটার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্তে আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমেন্ট