প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্প ব্যয়ে সাশ্রয়ী হতে নির্দেশনা দিয়েছেন
সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে যুবককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করল প্রতিপক্ষ
মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হায়দার মুন্সি (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করেছে প্রতিপক্ষরা। হামলার সময় ছোট ভাই সুজন মুন্সি এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের ফাযিলখাঁর ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা ওই এলাকার মৃত ধলা মুন্সির ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওই গ্রামের ইসলাম মণ্ডলের ছেলে কালাম মণ্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা রয়েছে হায়দার মুন্সির। প্রায় তিন বছর পূর্বে একটি মামলায় কালামের পক্ষে সাক্ষ্য না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। সেই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে রাতে ডেকে নিয়ে কালামের নেতৃত্বে ৫-৬ জন ধারালো চাপাতি ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।
এ সময় ছোট ভাই সুজন মুন্সি ছুটে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে দুই ভাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত সুজন মুন্সি বলেন, ‘তিন বছর আগে আমার ভাইয়ের সামনে আমাদের গ্রামের রিপন খাঁ ও কালাম মণ্ডলের মধ্যে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় আমার ভাই হায়দার মুন্সি সত্য সাক্ষ্য দেওয়াতে আসামির কিছু হয়নি।
ওই সময় থেকেই আমার ভাইয়ের ওপর কালামের ক্ষোভ। সে কারণে আমার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে দৌড়ে গেলে প্রথমে আমাকে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। এরপর আমার ভাইকে কোপানো শুরু করে। আমার ভাই একটি বাড়িতে গিয়ে পালালেও সেখান থেকে বের করে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলেছে।
’
এ ঘটনায় বিচারের দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই সত্যি কথা বলায় আজকে এই পরিণতি। কালাম এলাকায় মাদকের ব্যবসা করে। আমার ভাই বাঁচবে কি না জানি না। আমি এর ঘটনার বিচার চাই।’
আহতদের মা নিলু খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. রশিদ জানান, আহতদের মধ্যে হায়দার মুন্সির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার দুটি হাত ও একটি পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। তার মধ্যে একটি হাত ও একটি পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বলা যায়। তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুতই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কালাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
কমেন্ট