ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
লাখ টাকার চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় মানবপাচার, দম্পতি গ্রেপ্তার
মাসে লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তাররা হলেন খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. জিহাদ আলী লস্কর ও তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার।
গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁরা।
পিবিআই জানায়, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে স্থানীয় কয়েকজনকে মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেশী মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জিহাদ ও তাঁর স্ত্রীর কাছে দেন। পরে তাঁদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি।
বরং কম্বোডিয়ায় নিয়ে ভুক্তভোগীদের মেয়েদের পরিচয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণামূলক কথোপকথনসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাঁদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়।
একপর্যায়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে স্বজনদের সহায়তায় তাঁরা দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর দুই ভুক্তভোগী পৃথকভাবে দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় মামলা করেন। মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই খুলনা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরো জানা গেছে, একই কৌশলে এলাকার আরো কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই এলাকার আরো দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি মামলা করেছেন।
পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে চাকরির প্রলোভনে অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কমেন্ট