ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
গৃহকর্তা ছিদ্দিক আলীর ছেলে শামীম মিয়াকে (২৫) আসামি করে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা করেন ভুক্তভোগী কিশোরী (১৬)।
তবে মামলা করার পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী ও তার পরিবার। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত মো. শামীম মিয়া উপজেলার চুরতা গ্রামের বাসিন্দা।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার হবিগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষণের বিচার দাবি করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বাবা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করতেন। অভাবের সংসারের কারণে কিশোরী কন্যাকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজের জন্য পাঠান একই গ্রামের ছিদ্দিক আলীর বাড়িতে। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার সময় গৃহকর্তার ছেলে শামীম কিশোরীর প্রতি কুপ্রস্তাব ও কুদৃষ্টি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির একটি কক্ষ পরিষ্কার করার সময় গৃহকর্তার ছেলে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে তখন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি ৬ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর অভিযুক্ত জোর করে ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভপাত ঘটান। গর্ভপাত করে ৬ মাসের বাচ্চা খোয়াই নদীতে ফেলে দেন। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে অসম্পূর্ণ গর্ভপাতজনিত জটিলতার উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করতে এবং বিষয়টি গোপন রাখতে ওই প্রভাবশালী পরিবারটি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, হবিগঞ্জে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি হবিগঞ্জ পিবিআইকে তদন্তে পাঠান। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি। উল্টো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে গৃহকর্তার ছেলে শামীমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ওসি মৃলান দেবনাথ বলেন, খুব শিগগিরই আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
কমেন্ট