নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার প্রধান আসামি সাহেব আলীকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোহাম্মদ স্বপন, কনস্টেবল মনির হোসেন ও কনস্টেবল আবু হানিফ আহত হন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল্লাহ, নাঈম হোসেন আলেক ও ইকবাল হোসেন। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এএসআই মোহাম্মদ স্বপনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারে আটি হাউজিং এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে মোবাইল উদ্ধারের বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে সাহেব আলী ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো চাপাতি, দা, সুইচ গিয়ার, রড, এসএস পাইপ ও বাঁশের লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় সাহেব আলী ধারালো চাপাতি দিয়ে এএসআই স্বপনের মাথার পেছনে ও ডান হাতে কোপ দেন। পরে লোহার রড দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করা হয়। সহকর্মীকে রক্ষায় এগিয়ে এলে কনস্টেবল মনির হোসেনকেও ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এ সময় অন্য পুলিশ সদস্যরাও মারধরের শিকার হন।
মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে এএসআই স্বপনের কাছ থেকে একটি সরকারি মটোরোলা ওয়াকিটকি, একটি অপো এ১৬, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১৫ ৫জি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫২ হাজার ৫৭০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া কনস্টেবল মনির হোসেনের ব্যবহৃত একটি ভিভো মোবাইল ফোনও জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে এএসআই স্বপন ও কনস্টেবল মনির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এএসআই মোহাম্মদ স্বপন বাদী হয়ে সাহেব আলীকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় সাহেব আলীকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশ জানায়, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় তাকে গ্রেপ্তারে সাদা পোশাকে অভিযান চালায় র্যাব। সে সময় তাকে আটক করা হলেও সহযোগীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় র্যাব সদস্যসহ চারজন আহত হন। পরে একই বছরের অক্টোবরে সুনামগঞ্জ থেকে যৌথ অভিযানে সাহেব আলীকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
কমেন্ট