ফোনালাপ ফাঁসের পর যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত নেতা কারাগারে

ফোনালাপ ফাঁসের পর যুব অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত নেতা কারাগারে

‘পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না, এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ’—এমন অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসাইনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টার পর তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ১০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা করেন সদ্যবিলুপ্ত জেলা গণ অধিকার পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী।


ওই মামলায় ফারুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ। এর আগে দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।


পরে তাঁকে লক্ষ্মীপুর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ফারুক গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নাম ভাঙিয়ে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হয়। তবে তথ্য-প্রমাণ না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।


এজাহারে আরো বলা হয়, ফারুকের একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে তাঁকে ইয়াকুব হাসান সাকিব নামের এক যুবকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায়। এ সময় তিনি ওই টাকা ভিপি নুরের নির্দেশে চাওয়া হচ্ছে বলে জানান। পরে নুরুল হক নুর তাঁর ফেসবুক আইডিতে ফারুককে বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ফারুকের বক্তব্যে নুরুল হক নুরের ১০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের কারণে মানুষের মধ্যে নুরের বিষয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।


গত ৪ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের অডিও বার্তায় ফারুককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার পাসপোর্টটা জমা দিমু, তারপর ওয়ার্ক পার্মিট ভিসার জন্য পাঠাবো, যে দেশে বলবা সে দেশেই পাঠাবো। এজন্য পাঁচ-পাঁচই লাগবে, এক পয়সাও কম হবে না বাবা। এটা সরাসরি ভিপি নুরের নির্দেশ, কথাটা বুঝছো।’

অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফারুককে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।’ অভিযুক্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকেও বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে গ্রেপ্তারের আগে ফারুক হোসাইন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠ সম্পাদনা করে অডিওটি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য, এলাকার সাকিব নামের এক ছোট ভাই পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বললে তিনি পাঁচ হাজার টাকার কথা বলেছিলেন। সেই পাঁচ হাজার টাকাকেই এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা বানানো হয়েছে।

সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

নারীর গোসলের ছবি ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি পরবর্তী

নারীর গোসলের ছবি ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি

কমেন্ট