
ইতিবাচক ধারায় হাঁটছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গতি। ফলে গত কয়েক মাস ধরেই বাড়ছে বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখা এই প্রবাসী আয়। এপ্রিলে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৩২ কোটি ৭১ লাখ ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। যা মার্চের তুলনায় ২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার বেশি আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, রেমিট্যান্স বাড়লেও যে হারে বাড়ার কথা সেই হারে বাড়ছে না। কারণ দ্রুত সময়ে অর্থ স্বজনের কাছে পৌঁছাতে প্রবাসীরা এখনও ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে হুন্ডির মাধ্যমেই বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এজন্য বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি উদ্যৌগ নিলেও তা পুরোপুরি কাজে আসছে না।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূলত ডলারের দাম বেড়ে যাওযার কারণে রেমিট্যান্স বাড়ছে। এছাড়া হুন্ডি প্রতিরোধ করাও কিছুটা কাজে এসেছে। তাদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবাহ ধরে রাখতে শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনতে হবে। পুরানো বাজারের পাশিপাশি নতুন শ্রম বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবছরের এপ্রিলে ১৩২ কোটি ৭১ লাখ ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত বছরের চেয়ে ২৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বেশি। ওই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল ১০৯ কোটি ২৬ লাখ ডলার। আর গত মার্চে এসেছিল ১৩০ কোটি ৪ লাখ ডলার। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১ হাজার ২০৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার।
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা মাত্র ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা ছিল গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এরপর রেমিট্যান্স বাড়াতে হুন্ডি প্রতিরোধসহ নানা উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে অক্টোবর থেকে রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করে। ওই মাসে ১১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে, যা ছিল সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি। সেই থেকে বলতে গেলে এখনও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে এই প্রবাসী আয়।
কমেন্ট