
নানা নাটকীয়তা শেষে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীনকেই বেছে নিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের (জোট) প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ডিএসই’র অষ্টম বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) চীনা জোটের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছিলেন শেয়ারহোল্ডাররা।
বিশেষ সাধারণ সভায় ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের কাছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের ব্লকড একাউন্টে রক্ষিত ২৫ শতাংশ বা ৪৫০,৯৪৪,১২৫টি সাধারণ শেয়ার বিক্রয়ের চুক্তি এবং সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন ও গৃহীত হয়।
জানা গেছে, ডিএসই’র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারের প্রস্তাব যাচাইয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম। আর অন্য সদস্যরা হলেন- ড. এটিএম তারিকুজ্জামান ও আনোয়ারুল ইসলাম। কমিটি গঠনের পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।
কমিটি তার প্রতিবেদনে চীন ও ভারতের জোটের বিভিন্ন অযৌক্তিক শর্ত সামনে আসে। ডিএসই’র সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার চুক্তি যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী করার শর্ত দিয়েছে চীনের কনসোর্টিয়াম, যা বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থী।
এছাড়া কোনো বিবাদ দেখা দিলে লন্ডনের আন্তর্জাতিক আরবিটেশন অনুযায়ী, সমাধানের প্রস্তাব এবং নতুন কৌশলগত বিনিয়োগকারী অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে চীনের কনসোর্টিয়ামের লিখিত অনুমোদনের শর্ত দিয়েছে, যা বাংলাদেশের আইনের পরিপন্থী বলে মনে করছে বিএসইসি’র পর্যালোচনা কমিটি।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ডিএসই’র স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে চীনের দুই এক্সচেঞ্জ সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম (জোট) কারিগরি ও নগদসহ প্রায় ১ হাজার ২৯০ কোটি টাকার প্রস্তাব করে।
চীনের জোটের পক্ষ থেকে ডিএসই’র প্রতিটি শেয়ার ২২ টাকা দরে ক্রয়ের প্রস্তাব প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে ডিএসই’র ২৫ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ ৪৫ কোটি শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ৯৯০ কোটি টাকা।
এছাড়া কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকার (৩ কোটি ৭১ মার্কিন ডলার) বেশি ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি।
কমেন্ট