
রিজার্ভ চুরির বিষয়টি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির যে আগ্রহ বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, ফিলিপাইন সরকার তার সঙ্গে জড়াবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির অর্থ সচিব। ফিলিপাইনের পাসিগ সিটিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সভা চলাকালে গতকাল আলাপকালে দেশটির অর্থ সচিব কার্লোস ডমিঙ্গুয়েজ বলেন, আমার অভিমত হলো, এটা এখন সম্পূর্ণ তাদের (বাংলাদেশ) ও ব্যক্তি খাতের মধ্যকার বিষয়। আমাদের এখানে (ফিলিপাইন সরকার) করার কিছু নেই। সরকার এখানে তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের নিয়মনীতি অনুসরণ না করায় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) আমরা জরিমানা করেছি। খবর জিএমও নিউজ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আরসিবিসির সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখবে বাংলাদেশ।
তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় গড়াবে কিনা, তা বাংলাদেশ সরকার ও আরসিবিসির বিচক্ষণতার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন কার্লোস ডমিঙ্গুয়েজ। ফিলিপাইন সরকার এ সমঝোতায় কোনোভাবে অংশ নেবে না বলেও জানিয়ে দেন তিনি। ফিলিপিনো অর্থ সচিব বলেন, এ নিয়ে তারা যদি কোনো ধরনের আইনি সমঝোতায় যেতে চায়, সেক্ষেত্রে আমরা তাতে অংশ নেব না।
অন্যদিকে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর অন্যতম হিসেবেই আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির পথ খোলা রেখেছি। উদ্ধার না হওয়া বাকি অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য এটি সম্ভাব্য একটি পথ।’
তবে ফিলিপাইনভিত্তিক ব্যাংকটির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি এখনো বাংলাদেশের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব পদক্ষেপেরই রাস্তা খোলা রেখেছি আমরা। ওই মামলা যেমন একটি পথ, তেমনি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির বিষয়টিও সম্ভাব্য আরেক পথ। বাংলাদেশ চাইছে এ অর্থ পুনরুদ্ধার করতে। এ কারণে আমরা যতগুলো সম্ভব, সব পথ বিবেচনা করে দেখছি।
কার্লোস ডমিঙ্গুয়েজ জানান, এ বিষয়ে দায়েরকৃত মামলাকে শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনের জন্য ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) এরই মধ্যে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে। তিনি বলেন, এখানে যে একটি অপরাধ হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় আদালতের প্রমাণ দরকার। ২০১৬ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে আমরা বাংলাদেশের কাছে সে প্রমাণ চেয়ে আসছি, কিন্তু এখনো ওই প্রমাণ আমরা হাতে পাইনি।
তিনি আরো বলেন, এ মামলাটিকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা যায়নি, কারণ মুদ্রা পাচারবিরোধী আইনের (এএমএলএ) ধারা অনুযায়ী; আদৌ কোনো অপরাধ হয়েছিল কিনা, আদালতে এটা উপস্থাপনই সবচেয়ে বেশি জরুরি।
এদিকে ফিলিপাইনের হাতে অন্তর্বর্তীকালীন একটি প্রতিবেদন তুলে দিতে পুলিশের প্রতি আদেশ জারির জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বলে আরো জানান আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, অপরাধটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সংঘটিত হওয়ার কারণে ফিলিপাইনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত বলেন, এ বিষয়ে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংকো সেন্ট্রাল এনজি পিলিপিনাসের (বিএসপি) কাছেও তদন্ত বা অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটিও হাতে পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ২০১৬ সালের মার্চে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার খোয়া যায়। চুরি যাওয়া এ অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ক্যাসিনো জাঙ্কেট অপারেটর কিম অংয়ের কাছ থেকে এ অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে।
কমেন্ট