
রাজধানীতে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী ই-কমার্স প্রোমোশন এক্সপো।
প্ল্যাটিনাম ইভেন্টস্-এর আয়োজনে রাজধানীর গুলশানে গার্ডেনিয়া গ্রান্ড হলে শুক্রবার সকালে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ই-কমার্স খাতের বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ই-কমার্স এক্সপোর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে এ্যামটপ-এর সেক্রেটারি জেনারেল টি আই এম নূরুল কবীর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ও প্রায় ১৫ কোটি লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে এবং এ সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশে ই-কমার্স কার্যক্রমের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
তিনি সম্ভাবনাময় এ খাতটির বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।
ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশি পণ্যের ‘প্রডাক্ট লিস্টিং’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে দরাজ ডটকম এখাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদানে আগ্রহী।
তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালে দেশের ই-কমার্স খাতের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭০% এবং এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, আমাদের জিডিপিতে ই-কমার্সের অবদান ১%-এর কম, তবে এখাতের সাথে প্রায় ১ হাজার উদ্যোক্তা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত এবং ই-কমার্স খাত প্রায় ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টি আই এম নূরুল কবীর বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম অত্যন্ত জনপ্রিয় ও অত্যন্ত কার্যকর এবং ইন্টারনেট সারা পৃথিবীতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ধরন পাল্টে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, যার ফলে আশা করা যায় এ ধরনের উদ্যোক্তাদের নিরলস প্রয়াসের মাধ্যমে বাংলাদেশে ই-কমার্স একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
নূরুল কবীর বলেন, আমাদের দেশে গুণগত মানসম্পন্ন প্রচুর পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং এসব পণ্যের মার্কেটিং বা বাজারজাতকরণে আমরা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছি, যেক্ষেত্রে ই-কমার্সের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের নিজেদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আরো বেশি হারে ই-কমার্সের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা উন্নয়নের আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সঠিক বিকাশের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, আর্থিক অনুদান প্রদান এবং এখাতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ একান্ত আবশ্যক এবং এ লক্ষ্যে সরকারকে এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে, যা ব্যবহারের মাধ্যমে ই-কমার্স আরো সম্প্রসারিত হতে পারে। তিনি কম্পিউটার প্রযুক্তিসহ ইন্টারনেটের ওপর থেকে আগামী দুই বছরের জন্য সব ধরনের ভ্যাট, শুল্ক ও সারচার্জ প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে অনলাইন ও ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা আরো স্বল্পমূল্যে গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশে অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করছে এমন ৬০ জন্য উদ্যোক্তা আয়োজিত এ মেলায় অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক, জুতা, প্রশাধনী এবং গৃহসজ্জা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ‘ই-কমার্স প্রোমোশন এক্সপো’ শনিবার শেষ হবে।
কমেন্ট